সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: আর ৩৮ দিন বাকি। ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বয়স। বেশ কয়েকদিন ধরেই নানাবিধ ইঙ্গিত, আরএসএস প্রধানের সংকেতপূর্ণ বার্তা, সংসদ ও সরকারে অমিত শাহের গুরুত্ব হঠাৎ বৃদ্ধি—এমন সমাপতনের জেরে জল্পনার জোয়ার যেন আরও তীব্র হয়েছে। মোদি কি ১৭ সেপ্টেম্বরের আগেই ঘোষণা করবেন অবসরের? এবং উত্তরাধিকারী করে যাবেন অমিত শাহকে? এবার এই দীর্ঘ ঘটনাপঞ্জিতে যুক্ত হল আরও একটি বিস্ময়। মন্দির রাজনীতিতে তাঁর অনুপস্থিতি। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাস করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। উদ্বোধন করেন ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি। তখন থেকেই স্থির হয়ে যায় যে, রামচন্দ্রের জন্মস্থানে যেমন মন্দির নির্মাণ হয়েছে, তেমনই সীতার আবির্ভাবস্থলেও হবে নতুন মন্দির। স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশিত যে, অবশেষে বিহারের সীতামারিতে যখন জানকী মন্দিরের সংস্কার করে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে, সেই কর্মসূচির সামনে থাকবেন মোদিই। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। হয়তো নিখুঁত চিত্রনাট্যও। শুক্রবার সীতামারিতে জানকী মন্দিরের শিলান্যাস হল। হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে হবে নতুন সীতামন্দির। কিন্তু সেই মন্দিরের ভূমিপুজো করলেন কে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিহারে তিন মাসের মধ্যে বিধানসভা ভোট। তার প্রাক্কালে সীতামন্দিরের শিলান্যাস। অথচ মোদি বসে রইলেন দিল্লিতে। গোটা কর্মসূচির প্রধান চরিত্র কে? অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার পাশে চেয়ারে বসে নিছক দর্শক। কিন্তু শিলা স্থাপন, ভূমি পুজো, আরতি, হোমযজ্ঞ, সব কিছুর ভরকেন্দ্র কে? অমিত শাহ। তিনি অবশ্য ভাষণে বারবার বললেন নরেন্দ্র মোদির কথা। মোদির অনুপ্রেরণা ও দিশানির্দেশেই যে এই মন্দির প্রকল্প নির্মিত হতে চলেছে, সেটাই জানালেন তিনি। কিন্তু বিহার তথা দেশের রাজনীতিতে দিনভর গুঞ্জরিত হল একটাই প্রশ্ন—মোদি নেই কেন?



