Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুরে ‘টিবি নিয়ে কাজ করতে দেওয়া হয়নি’, বিস্ফোরক জুন মালিয়া

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মেদিনীপুরের তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া

মেদিনীপুরে ‘টিবি নিয়ে কাজ করতে দেওয়া হয়নি’, বিস্ফোরক জুন মালিয়া
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মেদিনীপুরের তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া। মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরে জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচিতে এসে টিবি নিয়ে কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। আর তাতেই ফের সরগরম মেদিনীপুরের রাজনীতি। এদিন মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথাও বলেন সাংসদ।

Advertisement

মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরের জজ কোর্ট চত্বরে জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচি হয়। উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম ঘোষ সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা। এদিন সাংসদ জুন মালিয়া পশুদের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগে খুশি শহরের পশুপ্রেমীরাও।
জুন বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁরা এগিয়ে আসছেন মানুষের কাছে। এটা কিন্তু হালে শুরু হয়নি। এই অভিযান শুরু হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ সালে। তবে বলতে খারাপ লাগলেও বলতেই হচ্ছে, আমরা যাঁরা জনপ্রতিনিধি, আমাদের রাজ্যে খুব একটা টিবি নিয়ে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। বলতে খারাপ লাগলেও আজকে আমাকে সেটা বলতে হবে। গত বছরও আমাকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। মানুষের কাছে সেই কাজ পৌঁছে দিতে পারতাম না। এখন আমি এই কাজ করতে পারি। মানুষের জানা উচিত তারা কী কী পরিষেবা পেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, আমরা সকলেই টিবি মুক্ত ভারত গড়তে চাই। এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা বুঝি। আমাদের আশা দিদিরা অনেক কাজ করেন। এই রোগের শুরুতেই চিকিৎসা শুরু করতে হবে। টিবি রোগের নানা লক্ষণ হতে পারে।
সাংসদের এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, একদা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য জুন মালিয়া আগে কেন এমন অভিযোগ করেননি? বরং বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকী ৪ মে ডিজে বাজানোর কথাও বলেছিলেন তিনি। সেই ভিডিও জেলাজুড়ে প্রচার করেছিলেন বিজেপি নেতারা।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে ওঠেন। মৃত্যুর হার ৫ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে প্রায় ৩ শতাংশ হয়েছে বলে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর। এই মুহূর্তে জেলায় সক্রিয় টিবি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৪০০। মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত বলেন, তৃণমূল জামানায় কোনো কর্মসূচিতে বিরোধীদের ডাকা হতো না। আমরা সবাইকে ডাকছি। সকলে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ