Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শো-রুমের কর্মী নয়, বার ডান্সার! আক্রোশে খুন ‘মক্ষীরানি’ স্ত্রীকে?

শো-রুমের কর্মী নয়, বার ডান্সার! আক্রোশে খুন ‘মক্ষীরানি’ স্ত্রীকে?
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ছোট মেয়ের বাবা কে, তা নিয়ে সন্দেহ ছিলই। সেইসঙ্গে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল স্ত্রীর ‘রঙিন’ জীবনযাপনের কাহিনি। উত্তরপাড়ার ভদ্রকালীতে স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিল স্বামী কাশীনাথ চট্টোপাধ্যায়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে স্ত্রী পায়েলের ‘রঙিন’ জীবনের হদিশ পান তদন্তকারীরা। তিনি বাড়িতে বলেছিলেন, পোশাকের শো-রুমের চাকরি করেন। আদতে তা নয়, তিনি ছিলেন বার ডান্সার। হুগলি ও হাওড়ার একাধিক পানশালায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। সেই সূত্রেই জুটেছিল প্রচুর ছেলেবন্ধু। রীতিমতো ‘মক্ষীরানি’ হয়ে বিরাজ করতেন পায়েল চট্টোপাধ্যায়। সেই রঙিন জীবনের পর্দা আচমকা ফাঁস হয়ে গিয়েছিল কাশীনাথের কাছে। সেটাই কাল হয়েছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিস।

Advertisement

যদিও এ নিয়ে বৃহস্পতিবার পুলিস কর্তারা কেউই মুখ খুলতে চাননি। চন্দননগর কমিশনারেটের এক কর্তার দাবি, পায়েল পানশালায় কাজ করতেন। তবে সেখানে কী কাজ করতেন, খুনের পিছনে তার প্রভাব কতটা, সেসব তদন্তের আওতায় রয়েছে। দম্পতির বিবাদের কারণ যে স্ত্রী’র বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, তদন্তে তার ইঙ্গিত মিলেছে। সেকারণেই স্ত্রীকে সন্দেহ করত কাশীনাথ। আত্মহত্যার চেষ্টা করা কাশীনাথ বর্তমানে কলকাতার একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। সে আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে। দ্রুত তাকে তদন্তের আওতায় আনা হবে। 
পুলিসের অন্য একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, পায়েল যে পানশালায় কাজ করতেন, তা সম্ভবত কোনও সহকর্মীর কাছ থেকে জানতে পারে কাশীনাথ। সত্যতা যাচাই করতে হয়তো নিজেও পানশালায় গিয়েছিল সে। গোটা বিষয়টি এখন কাশীনাথের বয়ানের উপর নির্ভর করছে। কারণ, স্বামী ও স্ত্রী ছাড়া পরিবারের কেউই এই বিষয়টি জানতেন না। তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল থাকতেই হয়তো পানশালার কাজের প্রসঙ্গটি কাশীনাথকে বলেছিলেন পায়েল। তখনকার মতো চাপে পড়ে ছুঁচো গিললেও বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি স্বামী। বিশেষ করে ছোট মেয়ের জন্ম নিয়ে সন্দেহ কার্যত তার বিশ্বাসে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকেই সে খুনের পরিকল্পনা করে থাকতে পারে। এর থেকেই স্পষ্ট, এটা কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। খুনের পরিকল্পনা অনেক আগেই করা হয়েছিল।
পুলিসের দাবি, কাশীনাথকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেকারণে আপাতত খুনের সম্ভাব্য মোটিভকে ঘিরেই তদন্ত অগ্রসর হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে উত্তরপাড়ার ভদ্রকালীতে ৭ নম্বরের ওয়ার্ডের একটি দোতলা বাড়ি থেকে গৃহবধূ পায়েল ও তাঁর তিন বছরের মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘরেই স্বামী কাশীনাথকে জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে পাশের ঘরে অক্ষত অবস্থায় ছিল বড় মেয়ে। স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে খুন করে স্বামীর আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টার স্বাভাবিক তত্ত্বে এই ঘটনাই ছিল বড় ফাঁক। তাতেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি ভিন্ন চেহারা নেয়। প্রকাশ্যে আসে পায়েলের ‘রঙিন জীবন’ পর্ব। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ