নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: খাতায় কলমে শিক্ষক। তাঁদের কর্মক্ষেত্র হওয়ার কথা পুরসভার স্কুলে। অথচ, তাঁরা বসে রয়েছেন পুরসভায়। বিভিন্ন শাঁসালো দপ্তরের মাথা হয়ে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বছরের পর বছর। তাঁদের কেউ কাউন্সিলারের স্বামী, কেউ বা কাউন্সিলারের একান্ত ঘনিষ্ঠ। দক্ষিণ দমদম পুরসভার এমন বেনজির ঘটনায় বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি পুরসভার সিআইসি বৈঠক ও বোর্ড মিটিংয়ে এনিয়ে আলোচনা হয়েছে। তীব্র বিতর্ক শুরু হওয়ায় শিক্ষকদের স্বপদে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণদাঁড়ি এলাকায় পুরসভার প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। ওই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন হয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে ৫০০ জনের বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। মাঝেমধ্যে অশিক্ষক কর্মচারীর ক্লাস নেন। ২০১৯ সালে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বিভিন্ন দপ্তরে বড় সংখ্যায় নিয়োগ হয়েছিল। যা এখনও সিবিআইয়ের তদন্তাধীন। এই নিয়োগের মধ্যে পুরসভার প্রাথমিক স্কুলেও ১৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন। সূত্রের খবর, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ কোনও দিন প্রাথমিক স্কুলের মুখ দেখেননি। তাঁদের মধ্যে অনেকে পুরসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। তাঁদের থাকার কথা স্কুলে। তাঁদের মধ্যে একজন পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের ইনচার্জ। অপর এক শিক্ষক মিড-ডে মিলের দায়িত্বে। একইভাবে জল ও জেনারেল বিভাগেও এমন শিক্ষকরা চাকরি করছেন। এই শিক্ষকদের মধ্যে পুরসভার এক কাউন্সিলারের স্বামীও রয়েছেন। তিনি অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সূত্রের খবর, এই শিক্ষকদের সিংহভাগের বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। শুধু তাই নয়, শহরের প্রভাবশালী কাউন্সিলারদের অতি ঘনিষ্ঠ। সে কারণে, নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার প্রথম দিন থেকে তাঁরা কোনওদিন স্কুলমুখো হননি। তাঁরা পুরসভার আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘শাঁসালো’ দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন।
সমস্ত কিছু ছকে বাঁধা রুটিনে চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি সিআইসি মিটিংয়ে বোমা ফাটান পুরসভার শিক্ষাদপ্তরের সিআইসি মৃন্ময় দাস। তিনি পুরসভার স্কুলে সুচারু পঠন-পাঠনের স্বার্থে এইসব শিক্ষকদের অবিলম্বে স্কুলে বদলির দাবি জানান। এনিয়ে বৈঠকে বিস্তর হইচই হয়। চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরী এইসব শিক্ষকদের তালিকা চেয়ে পাঠান। এরপর সিআইসি মিটিং ও বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনার পর শিক্ষকদের তাঁদের নিজেদের কর্মক্ষেত্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। স্ব-পদে যেতে হবে জেনে এইসব শিক্ষকদের অনেকেই প্রভাবশালীদের কাছে তদ্বিরও শুরু করেছেন। এই বিষয়ে মতামতের জন্য পুরসভার চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরি, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তকে ফোন করার পাশাপাশি মেসেজ করা হলেও, কোনও জবাব মেলেনি। শিক্ষা দপ্তরের সিআইসি মৃন্ময় দাসেরও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এবিষয়ে চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগামী শুক্রবারের সাধারণ সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।