Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৮ বছর ধরে আসে না স্যালারি গ্রান্ট, সুদের টাকাতেই বেতন! ভাঁড়ে মা ভবানী দশা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের

চৌষট্টি বছরের একটি প্রতিষ্ঠান। যার সঙ্গে সমগ্র উত্তরবঙ্গের সুনাম জড়িয়ে রয়েছে। আর সেই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা।

৮ বছর ধরে আসে না স্যালারি গ্রান্ট, সুদের টাকাতেই বেতন! ভাঁড়ে মা ভবানী দশা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: চৌষট্টি বছরের একটি প্রতিষ্ঠান। যার সঙ্গে সমগ্র উত্তরবঙ্গের সুনাম জড়িয়ে রয়েছে। আর সেই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা। আট বছরের বেশি সময় ধরে আসছে না স্যালারি গ্রান্ট।  ফলে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ জন অস্থায়ী কর্মী, আধিকারিক, অশিক্ষক কর্মীদের বেতন দিতে গিয়ে নাকানিচোবানি খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ফিক্সড ডিপোজিট থেকে পাওয়া সুদের টাকা তুলে ওই অস্থায়ী কর্মী সহ অন্যান্যদের বেতন দিতে হচ্ছে। এসবের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবে ৪৫ কোটি কম রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ভর্তির সংখ্যাও অনেক কমে গিয়েছে। বিগত দিনের তুলনায় সেই সংখ্যা এতটাই কমেছে যে, তা থেকে যা আয় হত তাতেও ঘাতটি দেখা গিয়েছে। 

Advertisement

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্ট্রার স্বপন রক্ষিত বলেন, অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বাবদ বছরে ১২ কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে আমরা কোনো স্যালারি গ্রান্ট পাচ্ছি না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের টাকা তুলে ওই বেতন মেটাতে হচ্ছে। সরকারকে এই সমস্ত বিষয় বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু, এখনও ফলপ্রসূ কোনো পদক্ষেপ হয়নি। 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত সরকারের আমলে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যালারি গ্রান্ট এসেছিল। সেই সময় বছরে ১১ কোটি টাকা করে পাওয়া যেত। যা দিয়ে অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের অনেকটাই মিটে যেত। কিন্তু, পরবর্তী আট বছর ধরে স্যালারি গ্রান্ট আসছে না। আর এতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। 
এদিকে, অস্থায়ীরা কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই দাবিতে তাঁরা আন্দোলনও চালিয়েছেন। এমন অবস্থায় বেতন বৃদ্ধি দূরঅস্ত! বিশ্বদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমতে থাকা, শিক্ষকের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য না থাকা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আটকে থাকায় উত্তরের সব থেকে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়টি দিনকে দিন কার্যত চরম অনিশ্চয়তার দিকে এগচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ