


সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: অভয়া কাণ্ডে চিকিৎসক অভীক দে’র বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যদপ্তরের বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ ঘিরে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে খুশির হাওয়া। এই কলেজ থেকেই অভীকের উত্থান। কলেজের একাংশের চিকিৎসক, বর্তমান ও প্রাক্তন পড়ুয়ারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁদের দাবি, অভীকের বিরুদ্ধে থ্রেট কালচারের অভিযোগের তদন্তের আওতায় উত্তরবঙ্গ, মালদহ ও বর্ধমান মেডিকেল কলেজকে আনা হোক। অভয়া কাণ্ডে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রথম থেকেই ছিলেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র অভীক। অভিযোগ, ছাত্রাবস্থায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ থেকেই তাঁর থ্রেট কালচার-এর হাতেখড়ি। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছত্রছায়ায় ক্রমে গোটা কলেজে থ্রেট কালচারের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলনে অভীক। দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদের নির্বাচন বন্ধ ছিল তাঁর হুমকিতে। কলেজ পরিচালন ব্যবস্থাতেও শেষ কথা হয়ে উঠেছিল। হস্টেল বণ্টন, সাংস্কৃতিক অনিষ্ঠানের নামে বিপুল টাকা তোলা, পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সবেতেই সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন অভীক। ডাঃ সুশান্ত রায়, সুদীপ্ত রায়ের ‘আশীর্বাদে’ তৃণমূল আমলে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ লবির গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন অভীক। অভিযোগ, বর্ধমান মেডিকেল কলেজে আরএমও হিসেবে যোগ দেওয়ার পরও উত্তরবঙ্গ, মালদহ সহ একাধিক মেডিকেল কলেজে তাঁর প্রভাব বজায় ছিল। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক তথা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের মেডিক্যাল শাখার রাজ্য নেতা ডাঃ সঞ্জীবন গুপ্ত দাবি করেছেন, তদন্ত শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে থ্রেট কালচারের গোড়ায় পৌঁছনো উচিত। তাই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ, মালদহ মেডিকেল কলেজ ও বর্ধমান মেডিকেল কলেজকেও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রভাব খাটিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে প্রতি বছর বিপুল অর্থ তুলেছেন অভীক। তথাকথিত উত্তরবঙ্গ লবির বিরোধীদের কাউকে ঢুকতে দিতেন না। অনেককে অপমান করেছেন। ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষায় প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীদের সিট বিন্যাস তাঁর নির্দেশ মতো করা হত বলেও তিনি দাবি করেন। বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের কাছে কারা অনার্স পাবে, সেই সংক্রান্ত তালিকা পাঠাতেন অভীক। সবাই তাঁর নির্দেশ মেনে চলতেন।তিনি আরও দাবি করেন, অভীক ফার্মা কাউন্সিলের দায়িত্বে থাকার সময় বিভিন্ন কলেজের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করতেন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ছেড়ে যাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত শিলিগুড়িতে আসতেন এবং মেডিকেলের হস্টেল থাকতেন। সেখানে তাঁর জন্য আলাদা ঘর সংরক্ষিত থাকত। সঞ্জীবন গুপ্ত আরও বলেন, সঠিক তদন্তের জন্য অভীকের ছাত্রাবস্থায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে যাঁরা প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।