Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আধঘণ্টার ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বহু এলাকা, ক্ষতি গম-সরষে চাষে

বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন ব্লকে। কোথাও গাছ পড়ে বাড়িঘর ভেঙেছে, কোথাও ঘরের চাল উড়ে গিয়েছে।

আধঘণ্টার ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বহু এলাকা, ক্ষতি গম-সরষে চাষে
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ, গঙ্গারামপুর ও তপন: বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন ব্লকে। কোথাও গাছ পড়ে বাড়িঘর ভেঙেছে, কোথাও ঘরের চাল উড়ে গিয়েছে। কোথাও আবার ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

Advertisement

আধঘণ্টার ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাধিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু এলাকা। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ে অন্তত চারশো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। টিনের চাল উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির, ইটের দেওয়াল ভেঙে গিয়েছে। রাধিকাপুর পার্কের দেওয়ালও ধসে পড়েছে। 
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাধিকাপুর, গোটগাঁও, উদগ্রাম, মালজুম, ফরিদপুর সহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। কোথাও গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটির উপর। 
বিদ্যুতের তারও ছিড়ে পড়েছে।  বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বেশকিছু জায়গায় বিদ্যুত্ পরিষেবা নেই। কালিয়াগঞ্জ শহরের ধনকৈল মোড় সংলগ্ন এলাকায় ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের ডাল সংগ্রহ করতে গিয়ে এদিন বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। মৃতার নাম বিমলা দাস (৫১)। গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়েছিল। সকালে গাছের ডাল সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হন।
রাধিকাপুর গ্রামের সঞ্জয় দাস বলেন, গভীর রাতে কয়েক মিনিটের ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। গাছ ভেঙে পড়েছে। আরেক বাসিন্দা রেখা দাসের বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে গিয়েছে। শুক্রবারও ঘর ঠিক করতে পারেননি। ঘরে জল ঢুকেছে। রেখার কথায়, সারারাত জেগে ছিলাম। ঘরের সমস্ত জিনিস ভিজে গিয়েছে। বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন কালিয়াগঞ্জের বিডিও বিদ্যুৎবরণ বিশ্বাস, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নিতাই বৈশ্য, কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিরন্ময় সরকার। 
বিডিও বলেন, ইতিমধ্যে ৪০০ পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এলাকা ঘুরে জেলাপ্রশাসনকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এলাকায় বিভিন্ন পরিষেবা স্বাভাবিক করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা এলাকায় থেকে সমস্ত পরিষেবা দিচ্ছেন। 
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি ব্লকের ২ নং করঞ্জী অঞ্চলে ভুট্টা ও গম খেত নষ্ট হয়েছে। শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, ঝড়ে উড়ে গিয়েছে একাধিক কাঁচা বাড়ির চাল। গৃহহীন হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার। রাস্তায় ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, ফলে গোটা এলাকা কার্যত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪০০ হেক্টর গম, ১০০ হেক্টর ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সকালে এলাকা পরিদর্শনে যান কুশমণ্ডি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রেজা জাহির আব্বাস। 
তপন ব্লকের হরসুরা, দ্বীপখণ্ডা ও হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে মাঠে থাকা পাকা সরিষার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি গমেরও ক্ষতি হয়েছে। আলু চাষেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ