নয়াদিল্লি: প্রতিশ্রুতি পালন না করা তো বটেই, মানুষের হকের পাওনাও না মেটানো ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে বড় ইস্যু হবে। মনে করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকায় জালিয়াতি করে ভোটের হার বাড়ানোর যে ছক বিজেপি করেছিল, তা ফাঁস করে হয়ে গিয়েছে। সোমবার এক আলাপচারিতায় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক একথা বলেন। তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা, আবাস যোজনা, রাস্তার প্রকল্পে টাকা আটকে রেখে বিজেপি হাঁড়িকাঠে আটকে গিয়েছে। এখন দিলেও তৃণমূলের নৈতিক জয়, আবার আটকে রাখলেও মানুষ ভোটে বিজেপিকে জবাব পেতে হবে।
টাকা আটকে রাখাটা বিজেপি তথা মোদি সরকারের কাছে ব্যুমেরাং হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অভিষেক। বলেন, বকেয়া ইস্যুতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, টাকা মেটাতে উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু প্রায় বছর খানেক পার। কিছুই হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি পালন করেননি। ফলে বাংলাকে বঞ্চনার ইস্যুই বিধানসভা ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল অন্যতম বড় ইস্যু হিসেবেই তুলে ধরবে।
দলে দুই গোষ্ঠী প্রসঙ্গে আলাপচারিতায় অভিষেক বলেন, ওটা মিডিয়ার কল্পিত। তৃণমূলে আমার কোনও গোষ্ঠী নেই। আলাদা করে আমার কোনও লোক নেই। আমি বারবার বলেছি, আমার নেত্রী দিদিই। আমার কোনও কোনও সুপারিশ যদি দিদি নাও মানে, তাহলেও কোনও বিরোধ নেই। আমার কাছে কিছু জানতে চাইলে বলি। সেটা দিদির সঠিক মনে নাও হতে পারে। দলে ভিন্ন মত থাকতেই পারে। তার মানে বিভাজন নয়। স্পষ্ট করেন অভিষেক।
বলেন, পাঁচজনের পরিবারেই অনেক সময় সহমত হয় না। আর তৃণমূল তো এত বড় রাজনৈতিক দল। আগামী দিনে আরও বড় হবে। বিজেপির অনেক তাবড় লোকজনই যোগ দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। একইসঙ্গে জানান, দলে দুর্নীতির কোনও জায়গা নেই। সে যেই হোক। আমার অফিসেই কাজ করা দু’জনকে নিজে পুলিসে অভিযোগ জানিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছি। ওরা দুর্নীতি করেছিল। দলকে চাঙ্গা করতে এখন ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার ধরার কাজে নিচুতলার কর্মীদের যুক্ত করা হয়েছে। কোনওভাবেই ভুয়ো ভোটারকে বাংলায় ভোট দিতে দেব না বলেই কার্যত নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন অভিষেক। বলেন, কমিশন কেন বলছে না কোথায় কত নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে? কোথায় বাতিল হয়েছে? দিল্লি আর মহারাষ্ট্রে একই কাজ করে জিতেছে বিজেপি। কিন্তু বিরোধীরা অনেক পরে সেটা বুঝতে পেরেছে। আমরা এখন থেকেই সজাগ। বিজেপির ছক বানচাল করে দিয়েছি।
ব্যক্তিগত কাজে গত শুক্রবার থেকে অভিষেক দিল্লিতে। সোমবার গিয়েছিলেন সংসদে। সভা না চলায় ‘সঙ্গম-১’ নামে সংসদের ক্যান্টিনে বসে দলের সাংসদদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা দেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় অখিলেশ যাদবের। বিরোধী জোট অটুট রাখার বিষয়ে কথাবার্তা হয়। পরে অভিষেক আলাপচারিতায় বলেন, ইন্ডিয়া জোট অটুটই আছে। লোকসভার জন্য জোট ছিল। থাকবে।