রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: ছ’মাসের মধ্যে বাংলার মসনদ দখলের নির্বাচন। ক্ষমতা আসার স্বপ্নে বিভোর রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। যদিও পার্টির একাংশের মূল্যায়ণ, এবারও ২০২১ সালের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। সৌজন্যে বাংলা-বাঙালি ইস্যু। বঙ্গ রাজনীতির পরিবর্তনশীল তরঙ্গের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অপারগ অবাঙালিরা। বিজেপি সহ গোটা গেরুয়া শিবিরের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এক ঝাঁক সংগঠনের মাথায় অবাঙালি। তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সরকার গঠন দুরস্ত, গতবারের ৭৭টি আসন ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ বিজেপির। তাঁদের ব্যাখ্যা, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দেশের অন্যপ্রান্তের তুলনায় অনেক বেশি স্পর্শকাতর। এক্ষেত্রে ভূমিপুত্র অর্থাৎ বাঙালিরাই সেই রাজনীতি বুঝে পাল্টা ‘চাল’ দেওয়ার যোগ্য। বহিলাগতদের পক্ষে যা সম্ভব নয়। অথচ বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বাংলার নেতারা একপ্রকার অযোগ্য। রাজ্যজুড়ে বিজেপির পালে হাওয়া তুললে, তার নেপথ্যে সংঘ অনুপ্রাণিত একাধিক সংগঠনের ভূমিকা থাকে। রাস্তায় নেমে বিজেপির সহযোগী হিসেবে কাজ করে। সে সমস্ত সংগঠনের অধিকাংশই চালাচ্ছে ভিন রাজ্য থেকে ‘আমদানি’ হওয়া অবাঙালিরা।
সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি হল, বিশ্ব বিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি), ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস), ভারতীয় কিষাণ সংঘ (বিকেএস) প্রমুখ। এই মুহূর্তে ভিএইচপি’র ক্ষেত্রীয় সংগঠন সম্পাদক পদে রয়েছেন শোহন সিং সোলাঙ্কি। আগে এই পদে ছিলেন বাঙালি নেতা শচীন্দ্রনাথ সিংহ। গেরুয়া অক্ষে বিজেপির ছাত্র সংগঠন বলে কোনও শাখা নেই। সংঘের ছাত্র-যুব শাখা এবিভিপি মূলত পড়ুয়াদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে। বাংলায় এহেন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের শীর্ষ সংগঠনিক পদে রয়েছে ত্রিপুরার বাসিন্দা আপাংশুশেখর শীল। শ্রমিক সংগঠন বিএমএসের দায়িত্বে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের গণেশ মিশ্রা। কৃষকদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংঘের শাখা বিকেএস’র সাংগঠনিক শীর্ষ পদে রয়েছেন হরিয়ানার শ্রীনিবাস। শুধু তাই নয়, বঙ্গ বিজেপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র দক্ষিণবঙ্গ। আরএসএস’র তরফে বিজেপির সাথে সমন্বয় সাধনের জন্য তৈরি হয়েছে প্রান্ত প্রচারক পদ। বহুদিন সেই দায়িত্বে রয়েছেন একজন গুজরাতি, প্রশান্ত ভট্ট।
উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক ও সহ পর্যবেক্ষক পদেও অবাঙালিদের আধিপত্য। রয়েছেন সুনীল বনসাল, অমিত মালব্য, আশা লাকড়া, মঙ্গল পাণ্ডেরা। অন্যদিকে, ভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেছে ভুপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেবরা। এক আদি বিজেপি নেতার কথায়, গত নির্বাচনে কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও তাঁর দলবল তৃণমূল থেকে লোকা ভাঙিয়ে পার্টিকে ডুবিয়েছিলেন। সেবার শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈখাশী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগদান করানোর বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন সংগঠন সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আপত্তি অগ্রাহ্য করে দিল্লিতে রেড কার্পেট দেওয়া হয়েছিল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও তাঁর বান্ধবীকে। সম্প্রতি তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন তাঁরা। এবারও সুনীল বনসলরা উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্য থেকে গুচ্ছ ‘ম্যানেজার’ নিয়ে এসেছে। যাঁদের হাতেই রয়েছে রাজ্য বিজেপির মূল চালিকা শক্তি। অভিজ্ঞ বিজেপি নেতাদের মতে, শুরু থেকেই বাংলার ‘মন’ বুঝে পদ্ম চাষের জমি তৈরি করতেই ব্যর্থ হচ্ছেন এহেন বহিরাগতরা।