


স্টকহোম: চলতি বছরে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পাচ্ছেন বিজ্ঞানী জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ ডেভোরেট ও জন এম মার্টিনিস। বৈদ্যুতিক সার্কিটে বড়ো পরিসরে কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং ও শক্তির পরিমাপ আবিষ্কারের জন্য এই তিন মার্কিন বিজ্ঞানীকে পুরস্কৃত করা হল। মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে নোবেল কমিটি জানিয়েছেন, ‘চলতি বছরে পদার্থবিদ্যায় নোবেল প্রাপকরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোয়ান্টাম প্রযুক্তির পাশাপাশি কোয়ান্টাম ক্রিপটোগ্রাফি, কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও কোয়ান্টাম সেন্সরের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছেন।’
কোয়ান্টাম মেকানিকস বা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান পদার্থবিদ্যার একটি মৌলিক শাখা। যা পরমাণু বা আরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার আচরণ ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে। এর অদ্ভুত জগতে বিস্ময়কর ঘটনাগুলি যে বড় পরিসরের কাঠামোয় দেখানো সম্ভব, তা করে দেখিয়েছেন ওই বিজ্ঞানীরা। আশির দশকে একাধিক পরীক্ষায় তাঁরা বিশেষ একধরনের অতিপরিবাহী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বা সার্কিট তৈরি করেন। এই ব্যবস্থায় কোয়ান্টাম টানেলিং বা সুড়ঙ্গ প্রভাবের বিষয়টি হাতে ধরা যায়, এমন পরিসরে দেখিয়েছেন। পাশাপাশি এই তিন বিজ্ঞানী প্রমাণ করেন, কোয়ান্টাম থিওরি মেনে এই সার্কিটে খুবই সামান্য পরিমাণ শক্তি শোষণ হয়।
নোবেল কমিটির প্রধান তিন বিজ্ঞানীর এই আবিষ্কার সম্পর্কে বলেছেন, ‘এক শতকেরও বেশি পুরোনো কোয়ান্টাম মেকানিকস এখনও আমাদের অবাক করছে। সেই সাফল্য উদযাপন করতে পারা এক অসাধারণ অনুভূতি।’ প্রসঙ্গত এই তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার বর্তমানে ট্রানজিস্টার ও মাইক্রোচিপ তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁদের এই উদ্ভাবন কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মতো প্রযুক্তি তৈরির পথ প্রশস্ত করেছে। যা সাধারণ কম্পিউটারের তুলনায় কয়েকগুন জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা (১.২ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ভাগ করে দেওয়া হবে। নোবেল প্রাপ্তির খবরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অধ্যাপক ক্লার্ক বলেছেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ। জানতাম না আমার এই আবিস্কার নোবেল পাওয়ার কারণ হবে।আমি আপনি দুজনেই ফোনে কথা বলছি তার নেপথ্যে রয়েছে এই আবিষ্কার।’