সংবাদদাতা, পতিরাম: বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জল নেই আত্রেয়ী নদীতে। ভরসা জলসম্পদ দপ্তরের পাম্প মেশিন। কিন্তু সেই পাইপলাইন বরাবর বাড়ি তৈরির জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করেছেন এক ব্যক্তি। এর জেরে ছ’দিন ধরে জমিতে জলসেচ করতে পারছেন না বালুরঘাটের গঙ্গাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা। এনিয়ে সোমবার কৃষকরা ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁরা এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন জলসম্পদ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। তাঁরা বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করলেও তা মেটেনি। এদিকে বোরো ধানের চাষ শুরু হয়েছে। এখন জলের প্রয়োজন। কিন্তু সেচের জল না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা। যদিও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জলসম্পদ ও অনুসন্ধান বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রিয়তনু মালাকার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বালুরঘাটের বিডিও সম্বল ঝা বলেন, এনিয়ে গ্রামবাসীদের তরফে একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। এনিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বালুরঘাটের গঙ্গাসাগরে ১৫০ জন কৃষক রয়েছেন। তাঁরা সরাসরি ওই এলাকার চক্কাশি আরএলআই -২ থেকে জল সংগ্রহ করে। তাঁরা সেই জল নিজেদের জমিতে নিয়ে যায়। পাশেই আত্রেয়ী নদী থেকে পাম্পের মাধ্যমে ওই জল সরবরাহ হয়। সম্প্রতি বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এছাড়াও জমিতে রয়েছে নানা প্রকার সব্জি। কিছু জমিতে ভুট্টা ও ফুলের চাষ হয়েছে। এজন্য বর্তমানে জলসেচের প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু চাষিরা জল পাচ্ছেন না।
নদী থেকে পাইপলাইন গ্রামের মধ্যদিয়ে জমিতে গিয়েছে। সেই গ্রামেরই এক পরিবার বাড়ি তৈরির জন্য ওই পাইপলাইনর বরাবর খুঁড়েছে। যাকে কেন্দ্র করেই এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে ওই এলাকার জল বিতরণ কমিটির সভাপতি পরিতোষ মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই জায়গা দিয়েই জলের পাইপলাইন গিয়েছে। কিন্তু ওই পরিবার ওই জায়গায় অবৈধভাবে বাড়ি তৈরি করছে। আমরা তা হতে দেব না। এলাকার বহু কৃষক আরএলআই-এর জলে চাষাবাদ করেন। কিন্তু কেউ জল পাচ্ছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক বিন্দেশ্বরী মাহাত বলেন, আমার তিন বিঘা জমি রয়েছে। জলের অভাবে ফসল শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই এদিন আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছি। যাদের নিয়ে সমস্যা সেই পরিবারের এক সদস্য বিপিন প্রধান বলেন, আমরা এই জায়গা কিনেছি। এই জায়গাতেই বাড়ি করতে চেয়েছিলাম। তাই খুঁড়েছি। এখন প্রশাসন যা বলবে আমরা তাই করব। এদিকে, এদিন খবর পেয়ে ওই এলাকায় যান বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মলয় কুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, দু’তরফেই কথা হয়েছে। আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আপাতত ওই কাজ বন্ধ থাকছে। এদিন সন্ধ্যা থেকেই জলের পাম্প চালু করা হয়েছে।