নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাধের রোমকে পুড়তে দেখেও নিরুত্তাপ ছিলেন সম্রাট নিরো। রোমান সাম্রাজ্যের অধিপতি বেহালায় ছড় টানছিলেন। নিরোরা আছেন এযুগেও। বুধবার বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১১ জন সমর্থক। আহত বহু। তাতে অবশ্য আইপিএল চ্যাম্পিয়নদের উৎসবে ভাটা পড়েনি। উদ্দাম সেলিব্রেশনের মাঝেই স-ব শেষ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও আতঙ্কে কাঁপছে গার্ডেন সিটি। আপশোস, আগে সতর্ক হলে এমনটা ঘটত না। স্টেডিয়ামের আশেপাশে শ্মশাণের স্তব্ধতা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছেঁড়া জুতো, চটির স্তুপ। পরিষ্কার করতে করতে হাঁফিয়ে উঠেছেন সাফাই কর্মীরা। চোখের জল শুকোয়নি অনেকেরই। শোকের আবহে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন ভারত ধিনায়ক কপিল দেব। তাঁর মন্তব্য, ‘উৎসবের চেয়েও মানুষের জীবন বেশি মূল্যবান। সেটা আমাদের সবার মনে রাখা উচিত। শোক জানানোর সত্যিই কোনও ভাষা নেই।’ প্রাক্তন ক্রিকেটার অতুল ওয়াসন একহাত নিয়ে আয়োজকদের, ‘আমাদের ভাবার সময় এসেছে। জানা উচিত কোথায় থামতে হয়।’
এই ঘটনা নিয়ে নড়ে বসল বিসিসিআই। এর পর থেকে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কীভাবে সেলিব্রেশন করা যাবে, তা নিয়ে নির্দেশিকা জারি হতে পারে খুব শীঘ্রই। এবার থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা ইচ্ছামতো বিজয়োৎসব আয়োজন করতে পারবে না। আসলে ২০০৮ সালে শুরু আইপিএল। বিজয়ী দলের সেলিব্রেশন ঘিরে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি।
বুধবার বিকেলে ৩৩ হাজারের চিন্নাস্বামীর বাইরে উপস্থিত ছিলেন প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ। ভিড়ের চাপে মোচার খেলার মতো দুলতে থাকে স্টেডিয়ামের গেট। অভিযোগের তির আরসিবি ম্যানেজমেন্টের দিকে। ঘটনার দিন কোনওরকমে সোশ্যাল সাইটে বিবৃতি দিয়ে দায় সেরেছিল তারা। তা নিয়ে প্রবল সমালোচনার ঝড় ওঠে। বৃহস্পতিবার ফের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা হয় ম্যানেজমেন্টের তরফে। দুর্ঘটনার মৃতদের ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তৈরি হচ্ছে আরসিবি কেয়ার। সেই টাকায় আহতদের সাহায্য করা হবে চিকিৎসায়। আরও জানানো হয়েছে, ‘সমর্থকরাই আমাদের প্রেরণা। ওরাই দলের প্রাণ। কঠিন সময়ে আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই।’ কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজছে কোথায়? বিরাট কোহলিদের আচরণ নিয়ে বহু ক্রিকেটপ্রেমী ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরই মধ্যে মুম্বই বিমানবন্দরে দেখা গিয়েছে সন্ত্রীক বিরাটকে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর মন্তব্য, ‘অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনা।’ তা নিয়েও প্রবল সমালোচনা শুরু। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের বক্তব্য, এই সময়ে বিরাটের কাছে আরও সহমর্মিতা আশা করা গিয়েছিল।