Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টিভির কানেকশন নেই, গ্যাস নেই শ্রীহীন বিজেপির জেলা পার্টি অফিস

টিভির কানেকশন নেই, গ্যাস নেই  শ্রীহীন বিজেপির জেলা পার্টি অফিস
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজীব গোস্বামী,মেদিনীপুর: ছব্বিশ বছরের পুরনো পার্টি অফিস। আগে ছিল ভাড়াবাড়ি। বঙ্গে বিজেপির এমএলএ, এমপি সংখ্যা বাড়ার পর পরই অফিসটিও কলেবরে বদলাতে থাকে। ভাড়াবাড়ি ছেড়ে শহরের সুভাষনগরে তৈরি হয় বিশাল বাড়ি। ২০১৯ থেকে ২০২৪। গমগম করত পার্টি অফিস। নেতা-কর্মীদের ভিড় লেগেই থাকত। নেতারা নিয়মিত বসতেন। চা’য়ে পে চর্চা হতো। কিন্তু, চব্বিশের লোকসভা ভোটে বিজেপি জোর ধাক্কা খেতেই সেই জেলা পার্টি অফিসের চেহারাও আমুল বদলে গিয়েছে। টিভির কানেকশন নেই। সন্ধ্যা বেলায় কর্মীদের চা পানের ইচ্ছে হলেও উপায় নেই। গ্যাসের সিলিন্ডার নেই। কাঁহাতক আর বাইরে থেকে চা এনে খাওয়া যায়! তার উপর নিয়মিত বিদ্যুৎবিলও পেমেন্ট হয় না। সবমিলিয়ে ক্রমেই বিজেপির জেলা কার্যালয়ের এখন ‘কর্মকাণ্ডহীন’ দশা! ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ। তাঁদের অভিযোগ, চব্বিশের লোকসভা ভোটে পড়শি জেলার এক দাপুটে নেতার অদূরদর্শী রণকৌশলের কারণেই পার্টি অফিসের এই হাল। সেই সঙ্গে জেলায় নিচুতলার নেতা-কর্মীদের ধরে রাখার রসায়নটাই জানেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষনেতারা। হারের হতাশা থেকে মুক্ত করে সবাই চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন না কেউই। এমনটাই অভিমত দলের একটা অংশের। 

Advertisement

এতে ফল যা হওয়ার তাই। দলীয় কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকরা কম আসছেন। তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনার মতো কোনও নেতা নেই। কার্যালয়ের সমস্যা সমাধানে নজর নেই কারও। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, মেদিনীপুরে বিজেপির কর্মীরা আসলে অভিভাবকহীন। জেলা সভাপতির সাংগঠনিক পেশাদারিত্বেরও অভাব রয়েছে বলে তাঁদের মত। যদিও এদিন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সুদাম পণ্ডিত বলেন, ‘এখন আর টিভি কেউ দেখে না। যখন দেখবে রিচার্জ করা যেতে পারে। আর এখন তো পার্টি অফিসে খাওয়া-দাওয়া হয় না। যখন মিটিং হয়, তখন গ্যাস আনা হয়। বিদ্যুতের  বিল আপ-টু-ডেট রয়েছে। একমাস বকেয়া ছিল।  বিষয়টা আমার জানা ছিল না। জানার পর সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
২০১৪ সালে গোটা দেশের মতো মোদি ঝড় আছড়ে পড়ে বাংলাতেও। বামেদের ভোটের একটা বড় অংশ সুইং করে চলে যায় গেরুয়া ঝোলায়। তাতে একলপ্তে শতাংশের হিসেবে ভোট অনেকটাই বেড়ে যায় বিজেপির। সংগঠনও বাড়তে থাকে। সুফল মেলে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে। মেদিনীপুর থেকে জয়লাভ করেন দলের ডাকাবুকো নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি নিজের স্টাইলে মেদিনীপুরে একটা শক্ত ভিত তৈরি করেছিলেন বলেন রাজনৈতিক মহল মনে করে। মেদিনীপুর জেলা পার্টি অফিসের ছবিও দ্রুত বদলাতে থাকে। ২০২৪ সালে দলের গোষ্ঠী বিভাজনের কোপে পড়েন দিলীপ। মেদিনীপুর আসন ছাড়তে হয় তাঁকে। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলীপকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমার সাজানো বাগান ছিল মেদিনীপুর।’ সেই সাজানো বাগানে আর পদ্ম ফোটাতে পারেননি ‘বহিরাগত’ প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তার পর থেকেই জেলার নেতা-কর্মীদের একটা অংশ চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁদের সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড় করাতে গেলে যে ধরণের নেতার প্রয়োজন, তা বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করতে পারেননি। স্বভাবতই, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দলের যেসব পুরনো কর্মীরা জেলা পার্টি অফিসে প্রাণপাত করতেন, তাঁদের এখন আর দেখা যাচ্ছে না। ঘরোয়া আড্ডায় এক বিজেপির নেতা বলছিলেন, ‘কার্যালয়ে টিভির কানেকশন থাকা মাস্ট। খবর না দেখলে রাজনীতিতে পিছিয়ে  পড়তে হয়। অথচ, আমাদের পার্টি অফিসেই টিভি দেখার সুযোগ নেই।  তা ছাড়া ছোট ছোট সুযোগ, সুবিধাও দলের তরফে পান না কর্মীরা। শুধু ভোটের সময় নেতারা পার্টি অফিসে আসেন। ভোট মিটেলেই তাঁরা খুব একটা আসেন না। তাই কর্মী-সমর্থকরাও উধাও।’ জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিকের কটাক্ষ, ‘বাংলায় বিজেপি ক্রমেই দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ