সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা করানোর নিয়মে বড় পরিবর্তন। এবার থেকে ওপিডি টিকিটের জন্য দিতে হবে রোগীদের আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর। মঙ্গলবার থেকেই এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে।
মেডিকেল কলেজের অ্যাসিট্যান্ট সুপার ঈশ্বর চট্টোপাধ্যায় জানান, চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতেই এই সিদ্ধান্ত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এই ব্যবস্থার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে। রোগীর চিকিৎসার সমস্ত তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণের জন্যই মূলত এই ব্যবস্থা। কখনও প্রয়োজন হলে সেই তথ্য এক ক্লিকেই খুঁজে পাওয়া যাবে। ক্রনিক ব্যাধির ক্ষেত্রে একটি টিকিটের কার্যকারিতা চারবার ডাক্তার দেখানোর পর শেষ হয়ে যায়। অনেকেই পুরনো টিকিট হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু অনলাইন ডাটাবেস থাকায় এখন আধার বা মোবাইল নম্বর দিলেই সমস্ত পুরনো তথ্য সামনে চলে আসবে। এই পদক্ষেপের ফলে রোগীদের আগের প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসার নথিপত্র হারিয়ে গেলেও ফের চিকিৎসা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এই ব্যবস্থার ফলে রোগীদের চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সহজ হবে এবং পরিষেবা প্রদান আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে।
উল্লেখ্য, রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, লাগোয়া মুর্শিদাবাদ জেলা এবং প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ডের একটি বিশাল অংশের মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের বড় অংশই অত্যন্ত দুঃস্থ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশা, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রান্তিক রোগীদের চিকিৎসা করাা আরও সহজ ও দ্রুত হবে এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।মেডিকেলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসা করাতে আসা মানুষের এক বড় অংশ। মনোজ দাস নামে এক রোগীর আত্মীয় বলেন, অনেক সময় আমরা বাড়ি থেকে তাড়াহুড়ো করে আসার সময় পুরনো টিকিটের কাগজ হারিয়ে ফেলি বা সঙ্গে আনতে ভুলে যাই। ডাক্তারের কাছে এসে তখন বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। নয়া ব্যবস্থার ফলে আধার বা মোবাইল নম্বর দিলেই পুরনো প্রেসক্রিপশন পেলে আমাদের উপকার হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ ও সংশয়ও রয়েছে রোগীদের একাংশের। চিকিৎসা করাতে আসা ঝাড়খণ্ডের শিকারীপাড়ার বাসিন্দা মনিলাল টুডু বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে চিকিৎসা করাতে আসি। অনেকেই তাড়াহুড়ো করে আসতে গিয়ে আধার কার্ড সঙ্গে আনতে ভুলে যেতে পারেন। সবার কাছে সবসময় মোবাইলও থাকে না। গ্রাম থেকে আসা দুঃস্থ মানুষ যাতে ওপিডিতে চিকিৎসা করাতে এসে ফিরে না যান, সেদিকে হাসপাতালের নজর দেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে ইশ্বরবাবু বলেন, যদি কোনো রোগীর কাছে তাৎক্ষণিকভাবে আধার কার্ড না থাকে, তবে তিনি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না। সে ক্ষেত্রে এমএসভিপির বিশেষ অনুমতি নিয়ে তিনি টিকিট কেটে চিকিৎসা করাতে পারবেন।