পরামর্শে বি পি পোদ্দার হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ সাত্যকী বসু।
পরামর্শে বি পি পোদ্দার হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ সাত্যকী বসু।
‘ঘুম’ খুব ছোট একটি শব্দ। এর অভিঘাত অনেক বড়ো। মানুষের শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অত্যন্ত জরুরি। তবে জীবনযাপনের ভুল পদ্ধতি, স্ট্রেস, মোবাইল আসক্তি ইত্যাদি নানা কারণে ঘুম আসতে চায় না রাতে। নানা অসুখের কারণেও অনেকে নিদ্রাহীনতায় ভোগেন। চিকিৎসা পরিভাষায় একেই বলে ইনসমনিয়া। দিনের পর দিন ঘুম না হলে বা অনিদ্রায় ভুগলে শরীরে নানা অসুখের ঝুঁকি বাড়ে।
কী কী অসুখের ঝুঁকি
উচ্চ রক্তচাপ: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। তার প্রভাব পড়ে রক্তচাপের উপর। তাই দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রায় ভুগলে রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে।
হৃদরোগ ও স্ট্রোক: দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা হৃদযন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে।
ডায়াবেটিস: কম ঘুমের কারণে শরীর ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
ওবেসিটি: পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বেশি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। জাঙ্ক ফুডের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। ফলে দ্রুত ওজন বাড়তে পারে।
কমে ইমিউনিটি: ঘুমের ঘাটতিতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়। ফলে সর্দি-কাশি, ভাইরাল সংক্রমণ সহ নানা অসুখ সহজেই কাবু করতে পারে।
মানসিক সমস্যা: দীর্ঘদিন ঘুমের অভাবে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, মেজাজ হারানো, মনঃসংযোগের অভাব, এমনকি বিষণ্ণতার ঝুঁকিও বাড়ে। মস্তিষ্কের ক্লান্তি কমে না বলে কাজে ভুল হয়। কাজে এনার্জিও মেলে না।
স্মৃতিশক্তি কমে: ঘুমের অভাবে কমে স্মৃতিশক্তি। নতুন তথ্য মনে রাখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কাজে মনোযোগ ধরে রাখা দুষ্কর হয়ে পড়ে। প্রভাব পড়ে লেখাপড়াতেও।
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট: অনিদ্রার সমস্যায় শরীরের বিভিন্ন হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয় যা বিপাকক্রিয়া ও শক্তি উৎপাদনের উপর প্রভাব ফেলে। শারীরবৃত্তীয় নানা কাজে সমস্যা হয়।
স্নায়ু রোগ: দীর্ঘদিনের অনিদ্রার সমস্যায় বাড়ে একাধিক স্নায়ুর অসুখের ঝুঁকি।
কী করবেন: • ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের স্ক্রিন এড়ান। • সন্ধ্যার পর চা, কফি বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম পান করুন। • রাতে হালকা খাবার খান এবং নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা করুন।
লিখেছেন: মনীষা মুখোপাধ্যায়