সাধারণ মানুষের ধারণা, অনিদ্রা হয় উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা বেড়ে গেলে। তবে দুঃশ্চিন্তার কারণে হওয়া অনিদ্রার পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে মস্তিষ্কের জটিল স্নায়ুর রোগ। থ্যালামাস, হাইপোথ্যালামাস বা ব্রেনস্টেমের সমস্যা, কিংবা স্ট্রোক, ব্রেন টিউমার ও মাথায় আঘাতের মতো কারণে নষ্ট হতে পারে ঘুমের ছন্দ। ঘুম না আসা অনেক সময় বড় স্নায়বিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণও বটে।
রেম স্লিপের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা গন্ধ না পাওয়ার সঙ্গে পারকিনসনস রোগের ঝুঁকি জড়িয়ে আছে। অন্যদিকে, রাতে বিছানায় শোওয়ার পর পায়ে পোকা হাঁটার মতো অদ্ভুত অস্বস্তি বা ‘রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম’-এর কারণেও ঘুম আসে না কারও কারও। আবার কার্পাল টানেল সিনড্রোম বা ডায়াবেটিসজনিত নিউরোপ্যাথির উপসর্গ রাতে বেড়ে যাওয়ায় ঘুম ভেঙে যায় অনেকের।
কিছু কিছু লোক আবার নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ খান, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খেয়ে, ঘুমের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার উপর জোর দিন। পাশাপাশি মেনে চলুন কিছু নিয়ম।
ভালো ঘুমের নিয়ম: ১. ঘর যেন শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক হয়। অতিরিক্ত আলো, বারবার শব্দ হওয়ার মতো বিষয়গুলি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
২. মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশনের নীল আলো মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। ফলে সহজে ঘুম আসে না। তাই শোয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত।
৩. রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিছানায় শুয়ে পড়া উচিত নয়। অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধান রাখলে হজম ভালো হয় এবং ঘুমও স্বাভাবিক থাকে। পাশাপাশি ভারী, তেল-ঝাল বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে থাকে। এতে অ্যাসিডিটি ও রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়ে, যা রাতের ঘুম নষ্ট করতে পারে।
৪. কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে। ফলে রাতের ঘুম ব্যাহত হতে পারে। তাই বিকেলের পর চা-কফি না খাওয়াই ভালো।
অনিদ্রা জানতে পরীক্ষা: ঠিক কোন কারণে অনিদ্রা হচ্ছে তা জানতে কিছু পরীক্ষা করানো হতে পারে। যেমন পলিসোমনোগ্রাফি নামে একটি পরীক্ষা করা হয় সারা রাত ধরে। এতে ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ, চোখের নড়াচড়া, শ্বাস-প্রশ্বাস, অক্সিজেনের মাত্রা, হৃদস্পন্দনসহ একাধিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। আবার ঘুমের মধ্যে মৃগীরোগজনিত সমস্যা হচ্ছে কি না বুঝতে ইইজি করা হতে পারে।
শেষ কথা: ঘুমের সমস্যা থাকলে তার পিছনে স্নায়বিক বা অন্য কোনও শারীরিক কারণও থাকতে পারে। তাই নিজের মতো করে ঘুমের ওষুধ না খেয়ে, আগে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।
লিখেছেন: সুপ্রিয় নায়েক