Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোট শতাংশে নেই চমক, সিপিএমের সান্ত্বনা দীর্ঘদিন বাদে একজন বিধায়ক!

শেষপর্যন্ত শূন্যের গেরো কাটল বামেদের। তাও একেবারে কানের পাশ দিয়ে। মানরক্ষা করল সেই মুর্শিদাবাদ। মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে জয়লাভ করলেন সিপিএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান।

ভোট শতাংশে নেই চমক, সিপিএমের  সান্ত্বনা দীর্ঘদিন বাদে একজন বিধায়ক!
  • ৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষপর্যন্ত শূন্যের গেরো কাটল বামেদের। তাও একেবারে কানের পাশ দিয়ে। মানরক্ষা করল সেই মুর্শিদাবাদ। মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে জয়লাভ করলেন সিপিএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান। সন্ধ্যা পর্যন্ত কমিশনের হিসাব অনুযায়ী ৪২ শতাংশের আশপাশে ভোট পেয়েছেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের হুমায়ুন কবিরকে পরাজিত করেছেন। দীর্ঘ পাঁচবছর বাদে বাংলার আকাশে লাল আবির উড়েছে। কিন্তু ভোট শতাংশ খুব একটা বাড়েনি। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী সিপিএমের ভোট শতাংশ ৪.৩৭ শতাংশ। তবে এরই মাঝে সিপিএমের তরুণ ব্রিগেড আরো একবার মুখ থুবড়ে পড়েছে।

Advertisement

ডোমকল নিয়ে প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বসী ছিল আলিমুদ্দিন। গণনার আগেই বিজয় মিছিলের ডিজে গান তৈরি হয়েছিল। এর পাশাপাশি খড়গ্রাম, জলঙ্গি, রানিনগর নিয়েও স্বপ্ন ছিল। কিন্তু তা ভঙ্গ হয়েছে। তাও শূন্যতা কাটিয়ে কি আলিমুদ্দিন স্ট্রিট খুশি? 
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলছেন, ‘খুশি বা দুঃখের প্রশ্ন নেই। অনেকদিন বাদে একজন বামপন্থী প্রতিনিধি বিধানসভায় যাচ্ছেন। আসলে রাজ্যের মানুষ তৃণমূল সরকারের পতন চেয়েছেন। তাঁরা বেছে নিয়েছেন বিজেপিকে। তার সঙ্গে এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া, কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর ফলে ভীতির আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণও হয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না-হওয়ায় বিকল্প স্থান বিজেপি দখল করেছে।’ 
সারা বাংলার মধ্যে শুধুমাত্র এই ডোমকলে কীভাবে জয় পাওয়া গেল? সেলিম বলছেন, ‘কোথায় এই বাইনারির রাজনীতি ভাঙা যায়, আমরা তার জন্য ম্যাপিং করেছিলাম। কংগ্রেস থাকলে আরো ভালো হতে পারত।’ তাহলে বিজেপি-তৃণমূলের সেটিং বলে কি রইল না কিছু? এই প্রশ্নের উত্তরে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলছেন, ‘তৃণমূল প্রতিশ্রুতি রেখেছে। বিজেপিকে ফ্রন্টে এনে লড়বেন বলেছিলেন। ধাপে ধাপে সেটাই হল। এবার একেবারে ফ্রন্টে।’ 
মোস্তাফিজুর ডোমকলে ১৬ হাজারের বেশি ভোটে জিতলেও উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দমদম উত্তরে দীপ্সিতা ধর, পানিহাটিতে কলতান দাশগুপ্ত, রাজারহাট নিউটাউনে সপ্তর্ষি দেব, খড়গ্রামে ধ্রুবজ্যোতি সাহাসহ একঝাঁক তরুণের ফল ভালো হল না। যদিও মীনাক্ষী গতবছর নন্দীগ্রামে আড়াই শতাংশের মতো ভোট পেয়েছিলেন। এবার তিনি উত্তরপাড়ায় ২৪ শতাংশের আশপাশে ভোট পেয়ে জামানত বাঁচিয়েছেন। কিন্তু এই তরুণ ব্রিগেডের প্রতিনিধিরা তৃতীয় স্থানেই থেকে গিয়েছেন। তাই আগামী দিনে ‘লংটার্ম’-এ পার্টির লড়াই আরো বাড়বে বলেই মনে করছে আলিমুদ্দিন।

সম্পর্কিত সংবাদ