Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কর্মীদের বদলি নয়, ‘ভোট-বিধি’ বাংলার ইন্টেনসিভ রিভিশনে

ঠিক যেন ‘ভোট-বিধি’! আগামী মাসেই বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) বিজ্ঞপ্তি জারি হতে চলেছে।

কর্মীদের বদলি নয়, ‘ভোট-বিধি’ বাংলার  ইন্টেনসিভ রিভিশনে
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর  বসু, কলকাতা; ঠিক যেন ‘ভোট-বিধি’! আগামী মাসেই বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) বিজ্ঞপ্তি জারি হতে চলেছে। আর সূত্রের খবর, তারপরেই সে কাজে যুক্ত কোনও কর্মীকে বদলি করা যাবে না। খালি রাখা যাবে না নির্বাচনী আধিকারিকদের পদও। কোনওরকম অসুবিধা হলে জবাবদিহি করতে হবে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে। অর্থাৎ, ইঙ্গিত স্পষ্ট—এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারির পর কার্যত ‘ভোট-বিধি’ই কার্যকর হতে চলেছে গোটা রাজ্যে। 

Advertisement

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারির পর ওই কাজে নিযুক্ত কোনও আধিকারিককে বদলি করতে পারবে না রাজ্য সরকার। ঠিক যেমনটা হয় ভোট বিজ্ঞপ্তি জারির পর। একান্তই যদি কোনও অফিসারকে বদলির প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে কমিশনের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। এমনকী এও জানা যাচ্ছে, বিজ্ঞপ্তি জারির আগে থেকেই খালি রাখা যাবে না রাজ্যের জেলাশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিইও), ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার পদ। এছাড়া এসআইআরের কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের সমস্ত রকম সহায়তার দায়িত্ব বর্তাবে মুখ্যসচিবের উপর। অর্থাৎ ওই আধিকারিকরা কোনওরকম অসুবিধার সম্মুখীন হলে মুখ্যসচিবই জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। সর্বোপরি নজরদারির দায়িত্বে থাকবে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। এই মর্মেই নির্দেশিকা জারি হতে চলেছে বলেই দাবি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এক্ষেত্রে সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদকে হাতিয়ার করে বিহারের মতোই বাংলায় এসআইআরকে কার্যকর করতে চাইছে কমিশন। 
ঠিক কীভাবে হবে এসআইআরের কাজ? কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি জেলায় দায়িত্বে থাকবেন জেলাশাসক বা ডিইও-রা। তাঁর নেতৃত্বে কাজ করবেন ইআরওরা। বুথ লেভেল অফিসারদের ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক গণনা বা ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করবেন তাঁরা। এক একটি ভোটকেন্দ্রে যাতে ১২০০-র বেশি ভোটারের নাম না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। গণনা ফর্ম বিলি থেকে শুরু করে ভোটাররা কীভাবে তা পূরণ করবেন এবং ওই ফর্মের সঙ্গে কোন নথি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে, বিএলওদের সেই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের দায়িত্বও থাকবে ইআরওদের উপর। 
এরপর বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও ফিল্ড ওয়ার্কে নেমে পড়তে হবে বিলএওদের। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তাঁরা ওই গণনা ফর্ম বিলি করবেন। এরপর ভোটারদের পূরণ করা গণনা ফর্ম (প্রয়োজনীয় নথি সহ) আপলোড করবেন ইসিআইনেট নামক অ্যাপে। কোনও যোগ্য ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়েন বা কোনও অযোগ্য ভোটার যাতে তালিকায় অর্ন্তভুক্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে ইআরও-দের। সমস্ত ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেবে কমিশন। ওই সময়ের মধ্যে যাবতীয় কাজ শেষ করতে হবে। 
এসআইআর নিয়ে যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে, সেকারণে এই কাজে প্রথম থেকেই রাজনৈতিক দলগুলিকে পাশে চায় কমিশন। তাই গোটা প্রক্রিয়া শুরুর আগেই সমস্ত স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গে নিয়েই বিএলওদের এই কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে খবর।    

সম্পর্কিত সংবাদ