


সংবাদদাতা, কাঁথি: গ্রন্থাগারিক সহ কর্মীর অভাবে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে খেজুরির জনকার চালতাতলিয়া বলাকা সংঘ পাঠাগার। পাঠাগারের মধ্যে কয়েক হাজার বই হেলায় পড়ে কার্যত নষ্ট হচ্ছে। উইপোকায় কাটছে বই। খেজুরি-১ ব্লক এলাকায় পাঁচটি পাঠাগার থাকলেও খেজুরি-২ ব্লকের মধ্যে একটিই পাঠাগার রয়েছে। সেটাই হল চালতাতলিয়া বলাকা সংঘ পাঠাগার। নতুন করে গ্রন্থাগারিক কিংবা কোনও কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় এলাকার একমাত্র পাঠাগারটি দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে রয়েছে। এনিয়ে পাঠকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁরা অবিলম্বে গ্রন্থাগারিক সহ প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ করে পাঠাগারটি আগের মতো সচল রাখার দাবি তুলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দশক আগে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মানুষজনের উদ্যোগে চালতাতলিয়ায় ছোট একটি ঘরে পাঠাগারটি চলত। ১৯৮১ সালে সরকারি অনুমোদন ও পথচলা শুরু হয়েছিল এই পাঠাগারের। ওই বছর গ্রন্থাগারিক নিযুক্ত হন শশাঙ্কশেখর জানা। পরের বছর জুনিয়র লাইব্রেরি অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে যুক্ত হন সমীরকান্তি মণ্ডল। শশাঙ্কবাবু ও সমীরবাবু দু’জন মিলে দীর্ঘদিন পাঠাগার সামলেছেন। তখন পাঠকদের ভিড় লেগে থাকত। বই পড়া, সংবাদপত্র পড়ার জন্য অনেকেই আসতেন। ২০০৭ সালে গ্রান্থাগারিকের চাকরি থেকে অবসর নেন শশাঙ্কবাবু। তারপর থেকে পাঁচ বছর সমীরবাবু পাঠাগারের দায়িত্ব সামলান। ২০১২ সালে তিনিও অবসর নেন। এরপর দু’তিন বছর ধরে পাঠাগারটি কর্মীশূন্য থাকলেও ২০১৫ সাল নাগাদ অন্য পাঠাগারের অবসরপ্রাপ্ত এক গ্রন্থাগারিক শম্ভু দাসকে এখানে নিযুক্ত করা হয়। তাঁর মেয়াদ শেষ হয় বছর দু’য়েক পর। ২০১৭ সাল নাগাদ গৌরহরি দাস স্থায়ী গ্রন্থগারিক নিযুক্ত হন। তিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত ছিলেন এবং পাঠাগারটিকে মোটামুটি সচল রাখতে পেরেছিলেন। তবে গৌরহরিবাবু ওই বছরই ট্রান্সফার নিয়ে নিজের বাড়ির কাছের পাঠাগারে চলে যান। তারপর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিডিও অফিস থেকে এক মহিলা কর্মীকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়। তিনি পাঠাগারটি কিছুদিন দেখাশোনা করেছিলেন। ওই কর্মী চলে যাওয়ার পর পাঠাগারের ঝাঁপ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে।
যদিও কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে এক বছর আগে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচে পাঠাগারের অভ্যন্তরীণ সংস্কার, রং-সহ অন্যান্য কাজ হয়েছে। কিন্তু ফের কর্মী নিয়োগ করে বন্ধ পাঠাগার চালুর জন্য কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় শ্যামপুর-কটকার বাসিন্দা শক্তিপদ পালের আক্ষেপ, আমরা এক সময় পাঠাগারে আসতাম। বই নিয়ে যেতাম। পড়ে ফেরত দিয়ে যেতাম। সেসব আজ স্মৃতি। একে ফেসবুক-ইউটিউবের যুগে বই পড়ার অভ্যাস তলানিতে ঠেকেছে। এর উপর কর্মীর অভাবে পাঠাগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এই পাঠাগার পরিচালন কমিটির সভাপতি সুমননারায়ণ বাকরা ও সম্পাদক শেখ আসেদ আলি বলেন, গ্রন্থাগারিক সহ কর্মীর অভাবে পাঠাগারটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা জেলা গ্রন্থাগার আধিকারিক থেকে শুরু করে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কিন্তু লাভ হয়নি। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে কোনও ব্যবস্থা হওয়া হবে। বিডিও বিকাশ নস্কর বলেন, নতুন এসেছি। এবিষয়ে খোঁজখবর নেব।