নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাস্তায় দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত, সরকারি ও বেসরকারি যানবাহনের নথিপত্র খতিয়ে দেখে পুলিস। কোনও নথিতে সামান্য উনিশ-বিশ দেখলেই গাড়ি-মালিকের ঘাড়ে পড়ে জরিমানার কোপ। হাজার কাকুতিমিনতিতে কোনও লাভ হয় না! কারণ, আইন আইনের পথে চলে! কিন্তু খোদ আইনের রক্ষকের গাড়িরই যদি কাগজপত্র ঠিক না থাকে? যদি বছরের পর বছর ধোঁয়া পরীক্ষা না হয় সেই গাড়ির? অবাক হওয়ার মতো হলেও ঠিক এটাই ঘটেছে বলে অভিযোগ! মঙ্গলবার সকালে কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স (কেএলসি) থানা এলাকায় ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার কনভয়ের পাইলট কারের ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক বাইকচালকের। কলকাতা পুলিসের সেই গাড়িটি অবৈধভাবে চলছিল শহরের রাস্তায়। এক বছর আগে সেই গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ ফুরিয়েছে। নেই কোনও ইনস্যুরেন্সও।
মঙ্গলবার সকালে বিধানসভায় যাচ্ছিলেন শওকত মোল্লা। তাঁর গাড়ির সামনে ছিল কলকাতা পুলিসের লাল রঙের পাইলট কার (ডব্লুবি ০৬ বি ৪৬৯০)। আচমকাই সেই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বাইকচালক মহম্মদ তাজুদ্দিনকে (৪৯) ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের পর রাস্তার ধারে ঝোপে ঢুকে যায় পুলিসের গাড়িটি। বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো ও গাফিলতির জেরে মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করে কেএলসি থানার পুলিস। বিধায়কের দাবি, ‘পাইলট গাড়িটির অ্যাক্সলের একটি অংশ ভেঙে যায়। তার জেরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।’ এই সূত্রেই প্রশ্ন ওঠ, তাহলে কি পুলিসের গাড়িটির বেহাল অবস্থা হয়েছিল?
পরিবহণ দপ্তরের ওয়েবসাইট বলছে, গাড়িটি ১৬ বছরের পুরনো। দুর্ঘটনার দিন থেকে প্রায় এক বছর আগে ফিটনেসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। ১৫ বছরের বেশি পুরনো যে কোনও গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি বছর ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ করানো আবশ্যিক। সরকারি নিয়ম এটাই। সেই জায়গায় পুলিসের এই পাইলট কারের ফিটনেসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট। গাড়িটির অন্যান্য নথি থেকে জানা গিয়েছে, শুধু ফিটনেস নয়, কোনও ইনস্যুরেন্সও নেই। ফলে মৃতের পরিবার বিমার টাকা পাবে কীভাবে, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। গত ৯ বছর ধরে এই গাড়িটির পলিউশন সার্টিফিকেটের মেয়াদও উত্তীর্ণ। পরিবহণ দপ্তরের অ্যাপ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ধোঁয়া পরীক্ষা করাচ্ছে না খোদ পুলিসের গাড়ি। পলিউশন ‘লক’ করে দিয়েছে পরিবহণ দপ্তর।
‘বেহাল’ গাড়ির বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয় কলকাতা পুলিসের ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি কমিশনার শ্রীকান্ত জগন্নাথরাওয়ের সঙ্গে। নিরুত্তর থেকে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। মৃতের পরিবার প্রশ্ন তুলেছে, এই দুর্ঘটনার দায় কার? ফিটনেসের কাগজ ছাড়া গাড়ি রাস্তায় চলে কীভাবে? অপরাধীর চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।