সে এক অন্য সময়। ময়দানে ইস্ট বেঙ্গলের রাজত্ব। দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে মোহন বাগানের। ১৯৭৫ সালের আইএফএ শিল্ডে ৫ গোলে বিধ্বস্ত গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। হাওয়ায় উড়ছে ইস্ট বেঙ্গল। কোচ, কর্তা তো বটেই, সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। ১৯৭৬ সালেও দুর্ধর্ষ দল মশালবাহিনীর। বিশেষজ্ঞরাও ধরে নিয়েছিলেন বাজিমাত করবে লাল-হলুদ ব্রিগেডই। কিন্তু ১৭ সেকেন্ডে আকবরের গোল সব হিসাব পালটে দিয়েছিল। তবে ম্যাচ জুড়ে আমরাই দাপট দেখিয়েছিলাম। অসংখ্য সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছিল ম্যাচ হেরে। বিশ্বাস করুন, সেই আপশোস এখনও যন্ত্রণা দেয়।
সেদিন ম্যাচের আগে প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়। কাদার সমস্যা এড়াতে গোলপোস্টের সামনে ফেলা হয়েছিল কাঠের গুঁড়ো। আমার মনে হয়, সেই কারণেই গোলকিপার তরুণ বসুর পা কিছুটা গেঁথে যায়। ফলে গোলের সময় ঠিকভাবে শরীর ছুড়তে পারেনি। তবে গোল খাওয়ার পরও আমরা আত্মবিশ্বাস হারাইনি। আমি জাল কাঁপালেও তা অফ-সাইডের কারণে বাতিল হয়। মাঝমাঠে গৌতম সরকার দুরন্ত খেলেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রদীপ চৌধুরী, সুব্রত ভট্টাচার্য সমৃদ্ধ মোহন বাগান রক্ষণে ফাটল ধরানো সম্ভব হয়নি। সোমবার ঘরোয়া লিগের আরও একটা ডার্বি। আশা করব, বারাসত স্টেডিয়ামে কোনো ভুল করবে না ইস্ট বেঙ্গল। ডুরান্ড কাপ ফাইনাল জিতেছে হাবাসের দল। সেই স্পিরিট বজায় রেখে ঘরোয়া লিগের বড়ো ম্যাচেও বাজিমাত করুক। বুক চিতিয়ে লড়াই ইস্ট বেঙ্গলের ইউএসপি!