Bartaman Logo
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজোয় থিম বা আমিষে নিষেধাজ্ঞা নয়, সাফ জানাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

দুর্গাপুজো নিয়ে কোনো ফতোয়া-নিদান নেই। নিষেধাজ্ঞা নেই থিম কিংবা আমিষ ভক্ষণেও। মঙ্গলবার একথা জানাল খোদ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

পুজোয় থিম বা আমিষে নিষেধাজ্ঞা নয়, সাফ জানাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজো নিয়ে কোনো ফতোয়া-নিদান নেই। নিষেধাজ্ঞা নেই থিম কিংবা আমিষ ভক্ষণেও। মঙ্গলবার একথা জানাল খোদ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের কলকাতার কনভেনার অমিয় সরকার ‘বর্তমান’-এর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ‘পুজো পরিবার’ নামক সংগঠনের পোস্ট এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর সঠিক নয়। কোনো নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়নি। পুজো কমিটিগুলির কাছে কয়েকটি অনুরোধ জানানো হয়েছে মাত্র। কী সেই অনুরোধ? পুজো কমিটিগুলি যে কোনো থিমই বেছে নিতে পারবে। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা কিংবা মা দুর্গার প্রতিমার বিকৃতি না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেটাও মূলত দুর্গাপুজোর সনাতনী ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে। এই কারণে জুতো বা ছেঁড়া কাপড় দিয়ে মণ্ডপসজ্জা না করার আবেদন জানানো হয়েছে। একইভাবে মায়ের চক্ষুদান কিংবা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুজো উদ্বোধনেও আপত্তি নেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের। প্রতিপদেই বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিটি পুজো শুরু করতে হবে, এমনটাও তারা ভাবছে না। শুধু একটাই অনুরোধ করা হয়েছে, পুজো যেন চিরাচরিত রীতি মেনে হয়।

Advertisement

আর আমিষ ভক্ষণ? অমিয়বাবু রীতিমতো ঘোষণা করে দিয়েছেন, পুজো প্যান্ডেলের আশপাশে আমিষ খাওয়ায় কোনো নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বলাই হয়নি। শুধু মণ্ডপের স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে হ্যাঁ, অষ্টমীর ভোগে গোমাংস কোনোমতেই বরদাস্ত করা হবে না।
এছাড়া কুমোরটুলিতে প্রতিমা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে ছবি না তোলার কথা বলা হয়েছে হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের পক্ষ থেকে। মণ্ডপে সনাতনী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ‘যেখানে সম্ভব’ শব্দটি। যদিও পুজো প্যান্ডেলে আজানের ব্যাপারটি মেনে নেওয়া হবে না। আর সনাতনী সংস্কৃতি লঙ্ঘন করলে পুজো বন্ধ করে দেওয়ার কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অমিয়বাবু। গত ২৯ আগস্ট ‘বর্তমান’-এ প্রকাশিত এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনেও তাঁর এই বক্তব্য স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল। তিনি এও বলেছিলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তিমূলক প্রচার করছে।’ তা সত্ত্বেও যদি ওই প্রতিবেদনে কারও ধর্মীয় বিশ্বাস আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তার জন্য ‘বর্তমান’ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ