


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসার চালাতে আম জনতার যতই নাভিশ্বাস উঠুক, মূল্যবৃদ্ধি বলে কিছু নেই। অন্তত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে যে পরিসংখ্যান রয়েছে, তার ভিত্তিতে এই উপসংহারেই পৌঁছেছেন আরবিআই গভর্নর। তাঁর দাবি, মূল্যবৃদ্ধির হার কমতে কমতে এখন ‘নামমাত্র’। বিশেষ করে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে যে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে স্বয়ং রিজার্ভ ব্যাঙ্কই রেপো রেট কমানোর সাহস পায়নি, এখন সেই খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম নাকি সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যেই। তিনদিনের নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকের পর বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেছেন, ‘জুন মাস থেকে খাদ্যমূল্য কমতে শুরু করেছে এবং সেটা এখন এমনই কম যে, মূল্যবৃদ্ধির হার ছ’বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এমনকী জুন মাসের মূল্যবৃদ্ধির হার নেগেটিভ গ্রোথ দেখিয়েছে।’ অর্থাৎ দাম বৃদ্ধির পরিবর্তে কমে গিয়েছে ০.২ শতাংশ। এই তালিকায় সবজি থেকে নিত্যদিনের প্রাত্যহিক খাদ্যদ্রব্য—সবই আছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই ঘোষণায় হতবাক আম জনতা। বিরোধীরাও। আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং বলেন, ‘সরকার এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কি মাটির সঙ্গে যোগাযোগ আছে? রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দাবি অবাস্তব। মূল্যবৃদ্ধির আঁচে শহরের মানুষই প্রবল সঙ্কটে। শুধু দিল্লিতেই বাজার থেকে স্কুলের ফি, সব এখন আগুন।’
সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা কী? সাম্প্রতিক হাউসহোল্ড এক্সপেন্ডিচার সংক্রান্ত একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভারতবাসীর বড় অংশের গড়ে ৩৯ শতাংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে খাবার জোগাড়ে। যদিও বাকি সব ছেড়ে দিলেও ভোজ্যতেলের ঝাঁঝে যে আম জনতার চোখে জল আসছে, সে ব্যাপারে কোনও উদ্বেগই দেখা যায়নি গভর্নরের বিবৃতিতে। অথচ, সাদা তেল হোক বা সর্ষের, দাম লাফিয়ে বেড়েছে। সবজির দামও চড়া। শশা-বেগুন ১০০ টাকা কেজি, ঝিঙে ৮০ টাকা, লঙ্কা ১২০ টাকা। তাহলে সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার কেন কমল? রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, সবজি এবং ডালের কারণে। এই দুই খাদ্যপণ্য নাকি সস্তা হয়ে গিয়েছে। যদিও কোন অঙ্কে সবজি সস্তা হল, তার হদিশ নেই। কলকাতা থেকে দিল্লি, মুম্বই থেকে বেঙ্গালুরু—সর্বত্র বাজারে বিপরীত চিত্র। মধ্য ও নিম্নবিত্ত সংসার খরচ চালাতে গিয়ে রীতিমতো ধুঁকছে। প্রশ্ন উঠছে, রেপো রেট কখন বাড়ানো হয়? যখন মূল্যবৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণহীন হয়। এখন মূল্যবৃদ্ধি যদি না-ই থাকে, বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতি নির্ধারণের বৈঠকের পর রেপো রেট আরও কমানো হল না কেন? কেন অপরিবর্তিত রেখে দেওয়া হল? তাহলে অন্তত ২৫ কিংবা ৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমানোর কথা। আর সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কঋণের সুদ আরও কমিয়ে স্বস্তি দেওয়া যেত মধ্যবিত্তকে। কিন্তু সেটা করা হয়নি। চলতি আর্থিক বছরের মূল্যবৃদ্ধির হার মাত্র ৩.১ শতাংশ। একদিকে যেখানে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তখন আর্থিক বৃদ্ধিহারের পূর্বাভাস (জিডিপি) কিন্তু উল্টে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সাড়ে ৬ শতাংশ হবে চলতি অর্থবর্ষের জিডিপি বৃদ্ধির হার। ঠিক আগের বৈঠকের পূর্বাভাস কত ছিল? ৬.৭ শতাংশ। চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ মোদির ভারতের।