নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আমরা কোনও রাবার স্ট্যাম্প নই। কেন্দ্র চাপিয়ে দিলেও তা মানব না। শুক্রবার জিএসটির ধাপ কমা নিয়ে একাট্টা বিরোধী আট রাজ্য। ইস্যু: জিএসটি’র ধাপ কমানোয় রাজ্যের আর্থিক ক্ষতি। আগামী ৩ এবং ৪ সেপ্টেম্বর জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬ তম বৈঠকের আগে তাই একজোট হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, কেরল, পাঞ্জাব এবং তেলেঙ্গানার মতো আট বিজেপি বিরোধী রাজ্য। শুক্রবার নয়াদিল্লির কর্ণাটক ভবনে আট রাজ্যের অর্থমন্ত্রী, প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, আসন্ন কাউন্সিলের বৈঠকে তাঁরা মোদি সরকারকে চেপে ধরবেন। নিজ রাজ্যের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেই ছাড়বেন। কোনওভাবেই কেন্দ্র কিছু চাপিয়ে দিল মানা হবে না। জিএসটির ধাপ কমানোর কেন্দ্রীয় প্রস্তাবে কোনও রাজ্যেরই আপত্তি নেই। তবে তার জন্য রাজ্যগুলির রাজস্ব ক্ষতিকে অত্যন্ত দামি কোনও দ্রব্যের করের সঙ্গে অতিরিক্ত ‘লেভি’ জুড়ে মেটাতে হবে। ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অন্তত পাঁচ বছর।
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি রেসিডেন্ট কমিশনার উজ্জয়িনী দত্ত উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, জিএসটির ধাপ কমে সাধারণ ক্রেতার সুরাহারই পক্ষে রাজ্য। কিন্তু জিএসটির ধাপ আচমকা কমে গেলে পশ্চিমবঙ্গের বছরে আনুমানিক ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হবে। এতে রাজ্যের নানা প্রকল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে কেন্দ্রকে এমন কোনও রাস্তা বের করতে হবে যাতে রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতি না হয়। আর হলে তা ক্ষতিপূরণ হিসেবে মেটাতে হবে কেন্দ্রকে।
একই ভাষায় হিমাচল প্রদেশের অর্থমন্ত্রী রাজেশ ধারমানি বলেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্রটিপূর্ণ জিএসটি চালু করায় গত ২০১৭-২০২২, এই পাঁচ বছরে আমাদের ১৭ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। আবার এখন জিএসটি হারের ধাপ বদল করলে বছরে গড়ে এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হবে। তাই আমরা ধাপ কমানোর পক্ষে। তবে রাজ্যের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতেও কেন্দ্রকে উদ্যোগ নিতে হবে। তা নাহলে সরকারিস্তরে প্রতিবাদ তো হবেই। সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইও শুরু হবে। প্রয়োজনে পথেও নামবে বিরোধীরা।
আগামী ২ সেপ্টেম্বর সব রাজ্যের অর্থসচিব সহ আধিকারিকদের বৈঠক রয়েছে। তারই নির্যাস জেনে বিরোধী আট রাজ্যের অর্থমন্ত্রী, প্রতিনিধিরা পরেরদিন ৩ সেপ্টেম্বর সকালে তামিলনাড়ু ভবনে বৈঠকে বসবেন। যৌথ স্ট্র্যাটেজিতেই কেন্দ্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করবেন।