নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় যানজট ও পার্কিং সমস্যার সমাধানে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বহুতল পার্কিং ব্যবস্থা ও শহরে সৌন্দর্যায়নের লক্ষ্যে দু’টি পৃথক সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা নিটকন লিমিটেডের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে তারা। বৃহস্পতিবার এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতার ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে শহরকে আরও আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করে তোলাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এছাড়াও কঠিন বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে কম্প্রেসড বায়ো গ্যাস তৈরির লক্ষ্যে নয়ডার একটি কোম্পানির সঙ্গেও এদিন মউ স্বাক্ষর করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। তারা রাজ্যে প্রথম পর্যায়ে তিন হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
কলকাতার বাণিজ্যিক এলাকা, হাসপাতাল এবং বাস ও মেট্রো টার্মিনাসের আশপাশে পার্কিংয়ের সমস্যা মেটাতে বহুতল পার্কিং কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থার সাহায্যে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফলে রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের চাপ কমবে, যান চলাচলের গতি বাড়বে এবং পথচারীদের চলাচলের সুবিধা হবে বলেই জানিয়েছেন মন্ত্রী। একইসঙ্গে শহরের প্রধান রাস্তা, ঐতিহ্যবাহী এলাকা, পার্ক, নদী তীরবর্তী অঞ্চল ও বাজারগুলির সৌন্দর্যায়ন করা হবে। রাস্তার ডিভাইডার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জন্য নির্দিষ্ট নকশা তৈরির পাশাপাশি রাস্তার উপর ঝুলে থাকা তারের জঞ্জাল সরানোরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের জেরে কীভাবে উপকৃত হবেন শহর তথা রাজ্যের মানুষ? এ বিষয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘এখন কলকাতার অন্যতম বড়ো সমস্যা হল ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ এবং পার্কিংয়ের জায়গার অভাব। বিশেষ করে ব্যস্ত এলাকায় এই সমস্যা আরও বেশি। এই চাপ কমাতে আধুনিক মাল্টি লেভেল কার পার্কিং প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য পিপিপি মডেলে ল্যান্ড মনিটাইজেশন এবং আইসিটি ভিত্তিক স্মার্ট পার্কিং ম্যানেজমেন্টের সাহায্য নেওয়া হবে। এর জেরে যানজট কমার পাশাপাশি পুরসভার কর বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধিও হবে।’
নিটকনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সতবিন্দর সিং জানান, প্রথমে বিস্তারিত সমীক্ষা করে উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করা হবে। তারপর পার্কিং কেন্দ্রের সংখ্যা, বিনিয়োগের পরিমাণ ও প্রকল্পের রূপরেখা চূড়ান্ত হবে। ধাপে ধাপে এই কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কলকাতা পুরসভা এলাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি বিধাননগর, শিলিগুড়ি, আসানসোল পুরসভা এলাকাতেও এমনই উদ্যোগ নেওয়া হবে। পার্ক ও রাস্তার ডিভাইডারের সৌন্দর্যায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার কাছে আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।



