


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর মুখে শহরে ফের খুলছে রুফটপ রেস্তরাঁ। তবে নতুন করে কোনও রুফটপ রেস্তরাঁ চালু করা যাবে না। পুরনো যেগুলি রয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুচলেকা দিয়ে সেগুলি খোলা যাবে। রুফটপ রেস্তরাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা ঠিক করতে বুধবার এ সংক্রান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠীর (পাঁচজন মন্ত্রী রয়েছেন) বৈঠক হয়। তারপরই রুফটপ রেস্তরাঁ চালুর এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) প্রকাশ করে একথা জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তবে পুজোর আগে রুফটপ রেস্তরাঁ খুলতে গেলে মানতে হবে একাধিক শর্ত। এসওপি নির্দেশিত সমস্ত নিয়ম কার্যকর করতে হবে আগামী তিন মাসের মধ্যে।
গত ২৯ এপ্রিল রাতে বড়বাজারের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে শিশু সহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়। তারপর নবান্নের নির্দেশে রুফটপ কাফে বা রেস্তরাঁ বন্ধ করার ফরমান জারি করে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু এই রেস্তরাঁগুলি মাসের পর মাস বন্ধ রাখা কার্যত সম্ভব নয়। এর সঙ্গে বহু মানুষের রুটিরুজি জড়িয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে অগ্নিবিধি মেনে কীভাবে বহুতলে বা রুফটপে রেস্তরাঁ চালানো সম্ভব, তা নিয়ে অভিন্ন বিধি প্রণয়ন করতেই ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে মন্ত্রীদের কমিটি গড়েন মুখ্যসচিব।
বৈঠকে ঠিক হয়েছে, যেসব বহুতলে ছাদ-রেস্তরাঁ চলছে, তাদের রাস্তার দিকে ছাদের অংশ ৫০ শতাংশ ছেড়ে ব্যবসা চালাতে হবে। এই অংশ বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। রাখতে হবে আলাদা সিঁড়িও। বহুতলের সিঁড়ির দরজা সব সময় খোলা রাখতে হবে। তবে ছাদের সিঁড়ি সারাক্ষণ খোলা থাকলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তার জন্য সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
রেস্তরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার বা স্টোভ ব্যবহার করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাইক্রোওভেন, ইনডাকশনে রান্না করা যাবে। পুজোর কথা মাথায় রেখে আপাতত কিছু ছাড় দিয়ে রেস্তরাঁ খোলা গেলেও তিন মাস পর দমকল, পুলিস এবং কলকাতা পুরসভা যৌথ পরিদর্শন করবে। সময়সীমার মধ্যে এসওপির সব শর্ত মানা না হলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাতিল হবে লাইসেন্স। আগামীতে ফায়ার লাইসেন্স না থাকলে অন্য কোনও ব্যবসার ক্ষেত্রেও লাইসেন্স দেওয়া হবে না বলেও ঠিক হয়েছে। থার্ড পার্টিকে দিয়ে করানো হবে অগ্নিসুরক্ষা সংক্রান্ত অডিট। এই তিন মাসের মধ্যে রুফটপ রেস্তরাঁর পাশাপাশি দমকল বিভাগ স্কুল, কলেজ, সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন আবাসন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ফায়ার অডিট করবে। এছাড়া, আইজিআরের মধ্যেমে রেজিস্ট্রি করে ছাদ বিক্রি বন্ধ করতে আইন সংশোধনের কথা ভাবা হচ্ছে।