নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে মিড ডে মিলের টাকা আসছে না স্কুলে। সেই কারণে পড়ুয়াদের মিড ডে মিল দেওয়া বন্ধ হয়ে গেল বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে রান্না হয়নি স্কুলে। টাকা না আসায় এতদিন টেনেটুনে ধারবাকিতে চলছিল রান্নার সামগ্রী কেনা। কিন্তু তাঁদের পক্ষে আর ধার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন দোকানদাররা। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ মিড ডে মিল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে। কলকাতা লাগোয়া গড়িয়ার বোড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিষয়টি রাজপুর সোনারপুর পুরসভার নজরে আনা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শিক্ষাদপ্তর থেকে মিড ডে মিল বাবদ টাকা আসে। পুরসভা সেই টাকা ট্রেজারিতে পাঠায়। তারপর সেই টাকা পায় স্কুল। গত তিন মাস ধরে সেই টাকা আসছে না বলেই জানিয়েছ পুর কর্তৃপক্ষ। তাই টাকা দেওয়া যায়নি। তাছাড়া যে পোর্টালের মাধ্যমে টাকা ছাড়া হয়, সেটিও বন্ধ রয়েছে বলে দাবি পুরসভার। মিড ডে মিল বন্ধ থাকায় পড়ুয়ারা স্কুলে এলেও শুকনো মুখে ফিরছে। কেউ খেয়ে আসছে, কেউ একবার করে রান্নাঘরে উঁকি মারছে। স্কুলে অনেক বাচ্চা গরিব পরিবার থেকে আসে। দুপুরে স্কুলের খাবারের উপর তাদের নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তিনদিন ধরে তারা খাবার পাচ্ছে না। রাঁধুনি থেকে শিক্ষক, সবাই অসহায়। স্কুল সূত্রে খবর, সব মিলিয়ে ৩২৫ জন পড়ুয়ার রান্না হত। তেল, ডাল, মশলা ইত্যাদি বাকিতে কিনতে কিনতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ধার হয়ে গিয়েছে। একাধিক শিক্ষক নিজের পকেট থেকে খরচ করেও কিছুদিন মিড ডে মিল চালাতে সাহায্য করেছেন। বোড়ালের এই স্কুলের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু স্কুলেও মিড ডে মিল চালাতে সমস্যা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। খেয়াদহ, লস্করপুরসহ একাধিক এলাকার স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অনেক কষ্টে চলছে রান্না। দ্রুত টাকা না ঢুকলে কিছুদিন বাদে তাদের স্কুলেও মিড ডে মিল বন্ধ করে দিতে হতে পারে।



