Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালি মাফিয়াদের রেয়াত করা হবে না, হুঁশিয়ারি রঘুনাথপুরের বিধায়কের

রঘুনাথপুরে অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বিধায়ক মামনি বাউরি। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বালি পাচার নিয়ে তদন্ত হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

বালি মাফিয়াদের রেয়াত করা হবে না, হুঁশিয়ারি রঘুনাথপুরের বিধায়কের
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় বৈধ বালি ঘাট নেই। অথচ দিনের পর দিন এলাকার বালি মাফিয়ারা দামোদর নদ থেকে অবৈধভাবে বালি তুলছে। সেই বালি মাফিয়াদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিলেন রঘুনাথপুর বিধানসভার বিধায়ক মামনি বাউরি। তিনি বলেন, ‘অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। এলাকার সম্পদ কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দিনের পর দিন পাচার হল, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি করে তদন্তের দাবি জানাব।’ পাশাপাশি বিজেপির নাম করে যারা তোলাবাজি করছে, তাদেরও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিজেপির নাম করে কেউ কোথাও তোলাবাজি করলে ছাড় পাবে না। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

Advertisement

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া জেলায় বেআইনি বালি কারবার নিয়ে গত সপ্তাহে বিধায়কদের নিয়ে জেলা প্রশাসন বৈঠক করে। সেই বৈঠকে মামনিদেবী এলাকার বৈধ বালি ঘাটগুলি খোলার দাবি জানান। তখনই জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় কয়েক বছর ধরে কোনো বৈধ বালি ঘাট নেই। আর তাতেই বিধায়ক হতবাক হয়ে যান। কারণ বছর দুয়েক আগেও সাঁতুড়ি থানা এলাকায় দামোদর থেকে বড়ো বড়ো লরি ও ডাম্পারে বালি তোলা হয়েছে। তাহলে কীভাবে এতদিন বালি নিয়ে যাওয়া হয়েছে? জেলা প্রশাসন তার কোনো জবাব দিতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর বিধানসভার সাঁতুড়ি এবং নিতুড়িয়া থানার পাশ দিয়ে দামোদর নদ বয়ে চলেছে। কিন্তু, কোনো বৈধ বালির ঘাট নেই। ফলে বালির অভাব দেখা দিয়েছে। বর্তমানে অন্য জেলার বৈধঘাট থেকে বালি এনে অনেকে বিক্রি করছেন। আর তাঁদের কাছ থেকে চড়া দামে এলাকার মানুষকে বালি নিতে হচ্ছে। অনেকে মোটা টাকা গুনেও বালি পাচ্ছেন না। তাই বালির অভাবে অনেক নির্মাণ কাজ বন্ধ। অনেকে আবাস যোজনার কাজ এখনো পর্যন্ত শুরু করতে পারেননি। বালির অভাবে এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পের ঢালাই রাস্তা, পিচ রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজ আটকে গিয়েছে। শিল্প কারখানাগুলিতে উন্নয়নের কাজ থমকে গিয়েছে। মহার্ঘ্য বালি এখন মহকুমার মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিধায়ক বলেন, বিধানসভা এলাকায় কোন বৈধ বালি ঘাট নেই শুনে হতবাক হয়েছি। কারণ দু’বছর আগেই চোখের সামনে বড় বড় লরি, ডাম্পারে বালি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।
বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়ার পর অনেকেই রাতারাতি বিজেপির জামা গায়ে চাপিয়েছে। তাদের একাংশ ইতিমধ্যে দল ও বিধায়কের নাম করে বিভিন্ন কলকারখানা, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা দাবি করছে। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। বিধায়ক বলেন, বিষয়টি কানে এসেছে। প্রত্যেককে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রতিটি জায়গায় বলে দেওয়া হয়েছে, বিজেপির নাম করে কেউ কোথাও টাকা চাইলে দেবেন না। প্রয়োজনে অভিযোগ জানাবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ