


বেজিং: পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সীমান্তপারের সন্ত্রাস নিয়ে একটি বাক্যও নেই। নেই পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার উল্লেখও। অথচ বহাল তবিয়তে রয়েছে বালুচিস্তানের অশান্তির প্রসঙ্গ। বৃহস্পতিবার সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) বৈঠকে পাকিস্তান ও চীনের এই একরোখা মনোভাবের প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। স্বাক্ষরই করলেন না যৌথ ঘোষণাপত্রে। আর ভারত স্বাক্ষর না করায় কোনওরকম সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হল এসসিও গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক।
চীনের বন্দর শহর কুয়িংডাওতে বসেছিল ওই বৈঠক। আলোচনায় যোগ দিতে বুধবারই সেখানে পৌঁছে যান রাজনাথ সিং। বৈঠকের শুরু থেকেই পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা, সীমান্তপারের সন্ত্রাস নিয়ে সরব হন রাজনাথ। পাকিস্তানের নাম না করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়াকে তাদের রাষ্ট্রনীতির অঙ্গ করে ফেলেছে কয়েকটি দেশ। তারা জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। এই দ্বিচারিতা মেনে নেওয়া যায় না। এই দেশগুলির সমালোচনায় এসসিও-র ইতস্তত করা উচিত নয়।’ সন্ত্রাস নিয়ে ভারতের বদলে যাওয়া অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। বুঝিয়ে দেন, সন্ত্রাস এবং উন্নয়ন একসঙ্গে চলতে পারে না। জঙ্গিরা যেভাবে মারণাস্ত্র নিয়ে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা রাষ্ট্রীয় মদত ছাড়া সম্ভব নয়। এরপরেই রাজনাথের হুঙ্কার, ‘যারা সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেয়, তাদের লালন পালন করে এবং সঙ্কীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাদের ব্যবহার করে, তাদের কৃতকর্মের ফল ভুগতেই হবে।’
পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলা এবং তার প্রতিশোধ হিসেবে অপারেশন সিন্দুরের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘পহেলগাঁওতে হামলার সময় জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়েছিল। রাষ্ট্রসঙ্ঘের জঙ্গি তালিকায় থাকা লস্কর-ই-তোইবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।’