বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ক্ষমতায় এলে বিদেশে গচ্ছিত সব কালো টাকা ফিরিয়ে আনব। প্রত্যেক নাগরিকের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ১৫ লক্ষ টাকা। ২০১৪ সালে এটাই ছিল নরেন্দ্র মোদির প্রধান ভোট-প্রতিশ্রুতি। ১২ বছরে এর সবটাই অবশ্য গল্পকথা হয়ে গিয়েছে আম জনতার কাছে। কালো টাকা ফেরেনি। প্রত্যেক দেশবাসীর অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকাও ঢোকেনি। এরইমধ্যে এবারের ফিনান্স বিলে নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছে অর্থমন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, যাঁরা কালো টাকা বিদেশের কোনও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমিয়ে রাখার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে সেই কর্মকাণ্ড আয়কর দপ্তরের কাছে চেপে গিয়েছেন, তাঁদের শাস্তি কমবে। আয়কর দপ্তরের দাবি, আগে বিদেশের মাটিতে কালো টাকা জমা করার হদিশ মিললে, জেল ও জরিমানার নিদান দেওয়া যেত। এখন থেকে তা আর হবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে বিদেশের সম্পত্তির কথা লুকিয়ে গেলে শুধু জরিমানা দিয়েই পার পাবেন আয়করদাতা। খাটতে হবে না জেল। বিদেশে ভারতীয় মুদ্রায় ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গচ্ছিত কালো টাকার ক্ষেত্রে আপাতত এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। সেই মতো বদলানো হবে ব্ল্যাক মানি আইন। ছোট করদাতাদের যাতে অহেতুক হেনস্তা না করা হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই আইন বলে দাবি কেন্দ্রের। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের বক্তব্য, ২০ লক্ষ টাকা আসলে লোক দেখানো। বিদেশে কালো টাকা জমা রাখার রাস্তা খুলে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। এরপর ধীরে ধীরে টাকার অঙ্কের বহর বাড়ানো হলে আশ্চর্যের কিছু থাকবে না। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবরকে মাপকাঠি ধরে এই সুযোগ কার্যকর হবে।
যাঁরা বিদেশে সম্পত্তি গচ্ছিত রেখেও এদেশে আয়কর দপ্তরের কাছে তা চেপে গিয়েছেন, ২০১৫ সালে তাঁদের জন্য একটি প্রকল্প আনে কেন্দ্র। সরকার জানায়, করদাতারা যদি বিদেশের সম্পত্তির কথা ঘোষণা করেন, জরিমানা দিয়ে তা ‘শুদ্ধ’ করা যাবে। ২০২৬ সালের ফিনান্স বিলে আবারও সেই সুযোগ করে দিচ্ছে কেন্দ্র। উপরন্তু জেলযাত্রার খাঁড়া মাথার উপর থেকে পাকাপাকিভাবে সরানোর তোড়জোড় চলছে। এর পাশাপাশি, কেউ যদি বিদেশে পড়তে বা ডেপুটিশেনে গিয়ে সেখানকার ব্যাংকে টাকা রেখে থাকেন, তার বিস্তারিত তথ্য আয়কর দপ্তরে জানানো যাবে। অল্প জরিমানা দিয়ে তা বৈধ করার সুযোগও দেবে সরকার।
আয়কর দপ্তরের কর্তাদের একাংশের কথায়, বিদেশি সম্পদের এককালীন ঘোষণা সংক্রান্ত সুযোগ দেওয়া দপ্তরের রুটিন কাজের মধ্যে পড়ে। কিন্তু বিদেশি কালো টাকা ইচ্ছাকৃত লুকিয়ে যাওয়া করদাতার জেলযাত্রা পাকাপাকিভাবে তুলে দেওয়ার অন্য উদ্দেশ্য আছে। বড় অঙ্কের টাকার ক্ষেত্রে ওই নিয়ম চালু হলে প্রতিবাদ হতে পারে রাজনৈতিক মহলে। তাই ২০ লক্ষ টাকার সীমানা রেখে, আপাতত বিষয়টি লঘু করা হয়েছে। আগামী দিনে তার বহর বাড়তেই পারে। কারণ, এই ধরনের মানসিকতার নজির সরকারের আছে। উদাহরণ দিয়ে বিভাগীয় কর্তাদের একাংশ বলেন, ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি অঙ্ক নগদে জমা বা তোলা হলে, এখন প্যান বাধ্যতামূলক। নয়া যে আয়কর আইন আসতে চলেছে, সেখানে ১০ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেনে প্যান দিতে হবে। কালো টাকা রুখতে এই পদক্ষেপ মোটেই কাজের কথা নয়। এভাবে কারবারটাই কেন্দ্র বাড়িয়ে দেবে না তো?



