Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেখা নেই অতিথি পাখির, আহিরণ বিল শুনশান, সূতিতে মন খারাপ বাসিন্দাদের

প্রতিবছরই নভেম্বরের শেষপর্ব থেকেই পরিযায়ী পাখির কলতানে সূতির আহিরণ বিল মুখরিত হয়ে উঠত।

দেখা নেই অতিথি পাখির, আহিরণ বিল শুনশান, সূতিতে মন খারাপ বাসিন্দাদের
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: প্রতিবছরই নভেম্বরের শেষপর্ব থেকেই পরিযায়ী পাখির কলতানে সূতির আহিরণ বিল মুখরিত হয়ে উঠত। সকালে সেই শব্দ জনপদের ঘুম ভাঙাত। কিন্তু এখন বছর শেষ হলেও এই জলাশয় শুনসান। পাখিপ্রেমীরা মনে করছেন, শীত জাঁকিয়ে পড়লেও পরিযায়ী পাখির দেখা মিলছে না। তাহলে তাদের আসার আর সম্ভাবনা নেই। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার কারণেই পরিযায়ী পাখিরা মুখ ফিরিয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

Advertisement


তবে এবিষয়ে বনদপ্তরের জঙ্গিপুরের রেঞ্জ অফিসার আনন্দ বিশ্বাস বলেন, এখনও পরিযায়ী পাখি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারি থেকে পরিযায়ী পাখিদের দেখা মিলতে পারে। এবছরও আমরা পাখি সুমারির কাজ করব। পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। গতবার আমরা বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতি দেখেছি। আমাদের বিশ্বাস, এবছর নতুন প্রজাতির পাখিও আসতে পারে।
প্রতিবছর শীতের হালকা চাদরে আহিরণ বিল ঢাকতে শুরু করলেই পরিযায়ী পাখিরা আসে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পুরো বিল ঘিরে ফেলে। কোথাও থাকে রেড ক্রেস্টেড পকার্ড, আবার কোথাও দল বেঁধে বসে গ্রেল্যাগ গুজ। পরিযায়ী পাখিদের আগমনে বিলের ছবিটাই বদলে যায়। 


স্থানীয়রা জানান, কয়েকবছর ধরে শীতের শুরুতেই ঝাঁক বেঁধে পরিযায়ী পাখিরা আসত। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত তাদের দেখা মিলত। কিন্তু এবার এখনও পরিযায়ী পাখিদের দেখা মিলছে না। শুধু আহিরণ নয়, সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইপুকুরেও এখনও সেভাবে পরিযায়ী পাখিরা নামেনি। ওই সমস্ত জলাশয় শুনসান হয়ে পড়ে আছে। 
পাখিপ্রেমী সৌম্যদীপ মণ্ডল বলেন, সাগরদিঘির ছাইপুকুরে অল্প কিছু পরিযায়ী পাখির দেখা মিলেছে। তবে আহিরণ বিলে আগের মতো আর পাখিরা আসেনি। জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য ও এলাকার পরিবেশের সৌন্দর্য-দুইয়ের জন্যই পরিযায়ী পাখিদের প্রয়োজন আছে। পরিযায়ী পাখিরা যাতে মুখ ফিরিয়ে না নেয়, সেজন্য পদক্ষেপ করতে হবে। পাখি শিকারের প্রবণতা রুখতে আমরা এলাকায় প্রচার করব।


আহিরণ পঞ্চায়েতের প্রধান সাবিনা বিবি বলেন, আগের মতো আর পাখি আসে না। লোকালয় থেকে দূরে বিলের গভীরে সামান্য কিছু পাখির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। পাখিদের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারলে হয়তো ওরা আসবে। জেলা পরিষদ একবার এবিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কাজ শুরু হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ