সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: উনুন থেকে বের হচ্ছে ধোঁয়া। সেই ধোঁয়ায় চোখ লাল হয়ে জল পড়ছে রাঁধুনিদের। তাও বিশ্রাম নেওয়ার উপায় নেই। কারণ ঘড়ির কাঁটা ১টা ছুঁলেই ক্যান্টিনের সামনে এসে লাইন দেবে শয়ে শয়ে মানুষ। মাত্র ৫ টাকায় ভরপেট ডিম-ভাত পেতে এখানে প্রতিদিন ভিড় জমায় শহরের ও আশেপাশের দুঃস্থ মানুষ। হলদিবাড়ি পুরসভা পরিচালিত হলদিবাড়ি শহরের মা ক্যান্টিনের রান্নাঘরে এলপিজি সিলিন্ডার বাড়ান্ত। গত সাতদিন ধরে কাঠের উনুনেই চলছে ক্যান্টিনের হেঁশেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন হলদিবাড়ি শহর ও তার আশেপাশের গ্রাম থেকে বহু দিনমজুর, টোটোচালক এবং অভাবী মানুষ এখানে আসে। মাত্র পাঁচ টাকায় গরম ভাত, ডাল, সবজি আর ডিমের ঝোল পেয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটে। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে সেই ক্যান্টিনেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। আচমকাই রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ।
ক্যান্টিনের রাঁধুনি নিবেদিতা দাস বলেন, গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে খড়ি জোগাড় করে রান্না করতে হচ্ছে। বড় বড় হাঁড়িতে খড়ির আগুনে রান্না করা যেমন খাটনির, তেমনই সময়ও অনেক বেশি লাগছে। ধোঁয়ায় রান্নাঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। কিন্তু রান্না বন্ধ রাখলে এই মানুষগুলো খাবে কী! তাই কষ্ট করেই রান্না চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন সাড়ে চারশো মানুষ খেতে আসে।
এ বিষয়ে হলদিবাড়ি শহরের বাসিন্দা বিশ্বম্ভর রায় জানান, খড়ির আগুনে রান্না করা হলেও খাবারের গুণমান ঠিকঠাকই থাকছে। হলদিবাড়ি শহর ও আশেপাশের লোকজন এসে পাঁচ টাকায় ডিম-ভাত খেয়ে যাচ্ছেন। তবে কাঠের আগুনে রান্নার কারণে কাজ সারতে কিছুটা দেরি হচ্ছে দেখছি।
হলদিবাড়ি শহরের গৃহবধূ মিনু দাসের কথায়, বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার নেই। তাই ক’দিন ধরে মা ক্যান্টিনে এসে দুপুরে খাবার খাচ্ছি। এখানে এসে দেখছি খড়ি দিয়ে রান্না হচ্ছে। ধোঁয়ায় ভিতরে থাকা যাচ্ছে না। আমরা চাইছি, দ্রুত প্রশাসন গ্যাস সিলিন্ডারের সমস্যা মেটাকে। যদিও এ বিষয়ে হলদিবাড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৌরভ রায় বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখব। • নিজস্ব চিত্র।