পূর্বাশা দাস: কথিত আছে, ‘মা হওয়া নয় মুখের কথা’। মাতৃত্ব একটা জার্নি। এই গোটা জার্নিতে অনেক সুখ দুঃখের মুহূর্ত জুড়ে তিলে তিলে সন্তানকে বড় করেন মা। একরত্তি সন্তানকে রেখে কাজে ফেরাও মায়েদের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং। এমনটাই মনে করেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রূপসা চট্টোপাধ্যায়। সদ্য মা হয়েছেন তিনি। ছেলে অগ্নিদেবের বয়স সাত মাস হতেই কাজে ফিরছেন। সান বাংলার ‘কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে’ ধারাবাহিকে দেখা যাবে রূপসাকে। সন্তানকে বাড়িতে রেখে কাজে ফেরাটা কতটা চ্যালেঞ্জিং? রুপসা বলেন, ‘সন্তানকে রেখে কাজে ফেরাটা প্রত্যেক মায়ের কাছেই খুব চ্যালেঞ্জিং। আমার ছেলের বয়স সাত মাস। অগ্নি এর আগে এতটা সময় আমাকে ছেড়ে থাকেনি। আমার মা সব সময় ওর দেখাশোনা করছেন। মায়ের সঙ্গে একজন সহকারীও আছেন। ওর বাবাও কাজের ফাঁকে যতটুকু সময় পাচ্ছে ওর যত্ন করছে।’
মাত্র সাত মাসেই ‘বীরপুরুষ’ রূপসার আদরের ‘ডুগাই’। দিনের শেষে মাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শ্যুটিং ফ্লোরে হাজির হয় ছোট্ট অগ্নিদেব। যারপরনাই খুশি রূপসা বলেন, ‘আমার বাড়ি যেহেতু শ্যুটিং ফ্লোর থেকে খুবই কাছে তাই আমার মা-বাবার সঙ্গে ডুগাইও আমাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য আসে। দিনের শেষে আমাকে দেখার পর ওর চোখে মুখে যে হাসিটা দেখি তাতে আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।’
‘কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে’ ধারাবাহিকে খলনায়িকার চরিত্রে দেখা যাবে রূপসাকে। চরিত্রের নাম মেঘা চট্টোপাধ্যায়। বারবার খলনায়িকার চরিত্র করতে গিয়ে টাইপকাস্ট হয়ে যাওয়ার ভয় কাজ করে? রূপসার জবাব, ‘আমার ভালোই লাগে। নেগেটিভ ক্যারেক্টার চ্যালেঞ্জিং। তবে টাইপকাস্ট হয়ে যাওয়ার ভয় নেই। আমার অভিনীত একটা চরিত্রকে অন্য চরিত্রের থেকে আরও বেশি ভালো ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। মেঘা চরিত্রটা নাম, খ্যাতির জন্য নিজের ভালোবাসার সঙ্গে আপস করে। অন্য একজনকে বিয়ে করে বিদেশ চলে যায়। খ্যাতি অর্জন করার পর কলকাতায় ফেরে। সেখানে পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে ফের দেখা হয়। আবার তার কাছে ফিরতে চায় মেয়েটি।’
মাতৃত্ব কিছু শারীরিক বদল নিয়ে আসে মেয়েদের চেহারায়। অভিনেত্রী হিসেবে ক্যামেরার সামনে ফেরার আগে নিজেকে কি গ্রুম করেছেন? রূপসা বলেন, ‘আমার কোনও শারীরিক পরিবর্তন হয়নি। উল্টে আমি অনেকটা রোগা হয়েছি। ডুগাইয়ের জন্ম এবং দেখতে দেখতে ছয় মাস কেটে যাওয়া— সবটা খুব পরিকল্পনামাফিক হয়েছে। আমার প্ল্যানই ছিল যে ওর ছয়-সাত মাস বয়স হওয়ার পর থেকেই আমি কাজে ফিরব।’ সন্তানের জন্য মেয়েদের কেরিয়ারে আপস করার ঘটনা নতুন নয়। রূপসা চান, ছোট থেকেই তার সন্তান জানুক, বাবা-মা দুজনেই কর্মরত। মাতৃত্ব কঠিন হলেও সবটা ব্যালেন্স করে চলতে পারলেই জীবন সহজ। এই মন্ত্রেই বিশ্বাসী রূপসা।