Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভর্তির ২৪ ঘণ্টা পরেও প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসকের দেখা নেই

রোগী দেখা নিয়ে ডাক্তারদের চাপানউতোরের অভিযোগ উঠল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

ভর্তির ২৪ ঘণ্টা পরেও প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসকের দেখা নেই
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ভর্তির ২৪ ঘণ্টা পরও চিকিৎসকের দেখা মিলছে না। রোগী দেখা নিয়ে ডাক্তারদের চাপানউতোরের অভিযোগ উঠল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। প্রিন্সিপাল কাম সুপার ছুটিতে থাকায় কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে এই হাসপাতাল। 

Advertisement

উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখরের বাসিন্দা মুর্তজা হোসেন বুধবার বেলা ১টায় তাঁর মাসিকে প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত কোনও ডাক্তার দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত তাঁর মাসিকে দেখেননি বলে অভিযোগ করেন মুর্তজা। তিনি বলেন, আমার মাসির পেট ব্যথা, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বুধবার প্রসূতি আউটডোরে দেখাই। সেখান থেকে বলা হয় ভর্তি করতে হবে, রক্ত লাগবে। দুপুর ১টা নাগাদ ভর্তি করাই। কিন্তু এদিন পর্যন্ত কোনও ডাক্তার দেখেননি, রক্তও দেওয়া হয়নি। 
মাসির সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করার জন্য হন্যে হয়ে ঘোরেন মুর্তজা। তিনি বলেন, সকাল থেকে হাসপাতাল সুপারের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কোনও আধিকারিকের দেখা পাচ্ছি না। সুপার, অ্যাডিশনাল সুপার নেই। আমার মাসির চিকিৎসা শুরু হবে কি না, কেন এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে সেবিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু কার সঙ্গে কথা বলব? সব চেয়ার খালি। 
অনেক ঘোরাঘুরির পর তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম দাসের কাছে পৌঁছন। গৌতমবাবু সব শুনে প্রসূতি বিভাগের যে  ইউনিটের অধীনে ওই মহিলা ভর্তি রয়েছেন সেই ইউনিটের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর মুর্তজাকে আশ্বাস দেন, শীঘ্রই তাঁর মাসিকে ডাক্তার দেখবে। 
মুর্তজার মতো এরকম অনেক রোগীর বাড়ির লোক এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু সুপার বা কোনও আধিকারিকের দেখা পাচ্ছেন না। 
সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক প্রিন্সিপাল হওয়ার পর তিনি যৌথ দায়িত্বে রয়েছেন। এদিন থেকে তিনি ছুটিতে গিয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক ছুটিতে থাকলেই হাসপাতাল অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে। বিভাগীয় প্রধানরা বলেন, দু’মাসেরও বেশি সময় হল স্থায়ী সুপার নেই। এতে চিকিৎসা পরিষেবায় সমস্যা  হচ্ছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে বা কোনও জিনিস কেনার অনুমোদনের জন্য সুপারের সই নিতে প্রিন্সিপাল অফিসে যেতে হয়। 
যদিও এ বিষয়ে অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ওই মহিলাকে কেন ডাক্তার দেখেনি তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। তাঁর যাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয় সে‌ই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ