বেলা ১১টাতেও দেখা নেই ডাক্তারের, বেলা ১১টাতেও দেখা নেই ডাক্তারের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট : ১৯৮৪ সালে নলহাটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে পথচলা শুরু করেছিল সোনারকুণ্ড প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। উদ্দেশ্য ছিল একটাই- মাইলের পর মাইল পথ পেরিয়ে শহরের বড় হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্য যাদের নেই, সেই গরিব মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসার আলো পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু চার দশক পর সেই হাসপাতাল আজ নিজেই ‘রোগী’। বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা এই হাসপাতাল চত্বরে একসময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার কোয়ার্টার থাকলেও, বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গোটা চত্বরটিই ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। চারপাশ ঢেকেছে ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে। এর ওপর প্রায়ই হাসপাতাল বন্ধ থাকার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অসুস্থ রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। মঙ্গলবারও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেটে তালা ঝুলতে দেখে ঘুরে যেতে হয় অসহায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের। 

Advertisement

মঙ্গলবার ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে দশটা ছাড়িয়ে গেছে। জুঙ্গল গ্রামের নিখিল মাল তাঁর এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভোগা স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে টোটোয় চেপে এসে নেমেছেন সোনারকুণ্ড হাসপাতালের চত্বরে। ভেবেছিলেন, সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তারবাবু ওষুধ দেবেন, একটু স্বস্তি মিলবে। কিন্তু হাসপাতালের সামনে এসে তিনি হতাশ। গেটে ঝুলছে তালা।
শুধু নিখিলবাবু একা নন, বলরামপুর গ্রাম থেকে ষাটোর্ধ্ব কাবিল শেখ সহ আরও জনা পাঁচেক রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা সকাল থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র্রে বারান্দায় ফ্যাকাশে মুখে বসে আছেন। কারো কপালে ঘাম, কারোর শরীরে কাঁপুনি- অথচ চিকিৎসা দেওয়ার কেউ নেই। সকাল সাড়ে এগারোটা বেজে গেল, কিন্তু না এল কোনো স্বাস্থ্যকর্মী, না খুলল তালা। শেষমেশ উপায় না দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরে যেতে হল তাঁদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এই বিশাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্দরমহলের চিত্রটা আরও ভয়ংকর। একসময়ের জমজমাট এই হাসপাতালে এখন মাত্র দুটি পদের অস্তিত্ব রয়েছে-একজন চিকিৎসক আর একজন সুইপার। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই কাগজে-কলমের চিকিৎসক বা কর্মীর দেখাও কদাচিৎ মেলে। অধিকাংশ দিনই সকাল থেকে বিকেল হাসপাতালের গেটে ঝোলে তালা। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য তৈরি সরকারি কোয়ার্টারগুলো আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভূতকুঠিতে পরিণত হয়েছে। চারপাশ ঘিরে ধরেছে জঙ্গল আর আগাছা।
নিখিল মাল, কাবিল শেখ, টিঙ্কু মাল আক্ষেপের সুরে জানান, আমরা গরিব মানুষ, ডাক্তার দেখানোর টাকা কোথায় পাব? ভেবেছিলাম সরকারি হাসপাতাল আছে, একটু চিকিৎসা পাব। কিন্তু এখানে এসে দেখি প্রায় দিনের মতো আজও গেটে তালা। আর কতকাল আমাদের এই বঞ্চনা সহ্য করতে হবে? এই নিয়ে স্থানীয়দের মনেও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। 
এব্যাপারে বিএমওএইচ ভৈরব সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র তো বন্ধ থাকার কথা নয়। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি দেখছি। সেই সঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বহু বছরের পুরনো হওয়ায় নতুন বিল্ডিং নির্মাণের জন্য জেলাশাসকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।  -নিজস্ব চিত্র