Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটের কাজে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নয়, নির্দেশ কমিশনের, এক লক্ষ বুথে বিএলও নিয়ে চিন্তায় নবান্ন

ভোটের কাজে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নয়, নির্দেশ কমিশনের, এক লক্ষ বুথে বিএলও নিয়ে চিন্তায় নবান্ন
  • ২৯ মে, ২০২৫ ১২:০৫
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মনোনয়ন জমা নেওয়া, স্ক্রুটিনি কিংবা প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ। কোনও ক্ষেত্রেই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ব্যবহার করতে পারত না রাজ্যগুলি। এবার নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, ভোটের কোনও কাজই আর চুক্তির কর্মীদের দিয়ে করানো যাবে না। অর্থাৎ, বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসেবে এতদিন চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ব্যবহারের যে সুযোগ রাজ্য সরকারের হাতে ছিল, সেই পথও বন্ধ হয়ে গেল। বিভিন্ন দপ্তরের অস্থায়ী সরকারি কর্মী, প্যারাশিক্ষক, আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বিএলও হিসেবে কাজ করতেন। কমিশন জানিয়েছে, কোনওরকম চুক্তিভিত্তিক, বা ভাতা পেয়ে থাকেন এমন কর্মীদের এই কাজে ব্যবহার করা যাবে না। জেলায় জেলায় এই মর্মে বার্তা পৌঁছে গিয়েছে। আর তাতে চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে নবান্নের শীর্ষ মহলে। কারণ, এখন প্রতি ১২০০ ভোটারে একটি করে বুথ। এই সংখ্যাটাই আগে ছিল ১৫০০। কমিশনের এই নয়া বিধির ফলে পশ্চিমবঙ্গে বুথের সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ব্যবহার করা গেলে সমস্যা হতো না। কিন্তু এবার এই বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মী কোথায় পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন জেরবার সরকার। সবচেয়ে বড় কথা, বিকল্প হিসেবে কাদের কাজে লাগানো যাবে, সেটাও স্পষ্ট করেনি কমিশন।

Advertisement

কিন্তু হঠাৎ কেন আশা, অঙ্গনওয়াড়ি বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের এই কাজ থেকে সরাতে চাইছে কমিশন? আধিকারিকদের বক্তব্য, অন্যান্য রাজ্যের এই কর্মীরা ‘আধা সরকারি’ হিসেবে মর্যাদা পান। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই কর্মীরা হয় পুরোপুরি চুক্তিভিত্তিক, কিংবা স্রেফ ভাতা পেয়ে থাকেন। ভোটের কাজে যে দায়বদ্ধতা সরকারি কর্মীদের থাকবে, চুক্তির কর্মীদের নিয়ে সে ব্যাপারে সংশয় থেকে যায়। তাই ভোটের কাজকর্ম নিখুঁতভাবে করতে সরকারি আধিকারিক স্তরের লোকজনই চাইছে কমিশন। অথচ, এই সিদ্ধান্তে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে, তা ভরাট কাদের দিয়ে হবে, তা নিয়েই উদ্বিগ্ন রাজ্য। বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে শহুরে বিধানসভায় বিএলও পেতে রীতিমতো সঙ্কট তৈরি হবে। কারণ সেখানে এক একজন বিএলওকে একাধিক বুথ এখন দেখতে হচ্ছে। সরকারি কর্মীর অভাবে এবং কমিশনের নয়া নীতির জেরে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক পাওয়াই মুশকিল হবে। বিশেষ করে কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার টালিগঞ্জ, যাদবপুর সহ ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিএলওর ব্যাপক সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
তাহলে উপায় কী? কারা বিএলও হতে পারবেন, সেই তালিকায় ১৩ ধরনের সরকারি কর্মীর কথা উল্লেখ করেছে কমিশন। এর বাইরেও যদি কোনও সরকারি দপ্তরের আধিকারিক বা কর্মী থেকে থাকেন, তাঁদের কথা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেইমতো জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানাবে রাজ্য। কমিশন যদি নিয়ম শিথিল না করে, সেক্ষেত্রে রাজ্যে নির্বাচনের কাজকর্ম নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ