নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের হাহাকার চলছে। লাইন পড়েছে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে এলপিজি ভর্তি ট্রাক লুট হয়েছে। কর্ণাটক থেকে তামিলনাড়ু, রাজস্থান কিংবা বিহার— অভিযানে ধরা পড়ছে মজুতদারি ও কালোবাজারি। কমার্শিয়াল সিলিন্ডার দেওয়া সরকারিভাবে বন্ধ। একমাত্র রাজ্য সরকারের অধিকার থাকবে কোন কোন সেক্টরকে কমার্শিয়াল এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়া যেতে পারে। উদ্বেগ ও আতঙ্কের আবহ থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার কিন্তু বলে চলেছে রান্নার গ্যাসের সংকট নেই। কিন্তু সমস্যা যে আছে, তার প্রমাণ দফায় দফায় এখন ভারত সরকারকে কথা বলতে হচ্ছে ইরানের সঙ্গে। যে ভারত, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গোটা আরব দুনিয়ার সঙ্গে, ইজরায়েলের সঙ্গে, আমেরিকার সঙ্গে কথা বলেছে, অথচ ইরানকে ফোন করেনি, তারাই এখন জ্বালানি সংকটের জেরে পুরানো ইরান নীতিতে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন ৩০ মিনিট ধরে। তারপরই আবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরও ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে ফোন করেন। স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য খুলে দিয়ে পণ্য পরিবহণ, বিশেষত এলপিজি সাপ্লাই মসৃণ করাই ভারতের অগ্রাধিকার। সেকথা দফায় দফায় ইরানকে জানানো হয়। ইরান বৃহস্পতিবার রাতে পরোক্ষে বিবৃতি দিয়ে বুঝিয়েছিল, আন্তর্জাতিক মহলের সকলের উচিত ছিল আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরান আক্রমণের নিন্দা করা। ব্রিকসের উচিত আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। প্রসঙ্গত ব্রিকসের সভাপতি এখন ভারত। সুতরাং আদতে ইরান ভারতকে বার্তা দিচ্ছে যে, তারা যেন আরও বেশি ইরানবান্ধব ভূমিকা নেয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় অবশ্য ভারতের নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আভাস দিয়েছেন বরফ গলছে। ইরান সম্ভবত ভারতের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে। যদি সেটা হয় তাহলে ভারত অনেকটাই স্বস্তি পাবে।



