Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রচারে নেই গাড়ি, থিম সং! শহুরে সিপিএমের মাটির মানুষ দীপু দাসের কসবা পরিক্রমা হেঁটেই

এক দশকের কাউন্সিলার আর বহু দশকের সিপিএম কর্মী, পরবর্তীতে নেতা হয়েছেন দীপু দাস। অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে তিনিই কসবা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী।

প্রচারে নেই গাড়ি, থিম সং! শহুরে সিপিএমের  মাটির মানুষ দীপু দাসের কসবা পরিক্রমা হেঁটেই
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক দশকের কাউন্সিলার আর বহু দশকের সিপিএম কর্মী, পরবর্তীতে নেতা হয়েছেন দীপু দাস। অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে তিনিই কসবা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী। তবে শহুরে সিপিএমের তুলনায় বেশ আলাদা। প্রায় একমাসের প্রচারে তাঁর পা ছিল মাটিতেই। হুড খোলা জিপ কিংবা গাড়ির মাথায় উঠে হাত দেখাননি। থিম সং তৈরি করেননি। অভিনেতা সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে মিছিলও করেননি। শহুরে সিপিএমের মধ্যে কসবার দীপু দাস হয়ে থেকেছেন ‘মাটির মানুষ’। হাতে স্মার্ট ওয়াচ থাকলে মনে হয়, কত স্টেপ হেঁটেছেন বলে দিতে পারতেন। তিনি ঘড়ি ধরে বলছেন, দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা হেঁটেছেন।

Advertisement

২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল তিনি ছিলেন ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুর প্রতিনিধি। তারপরও এলাকায় থেকেছেন, মানুষে জন্য। দীপুদেবী বলছিলেন, ‘এখন কাউন্সিলার নই। মানুষের প্রয়োজনে সবসময় থাকি। কারো রক্তের দরকার হোক কিংবা চিঠি লিখে দেওয়া। শুধু কাউন্সিলারের স্ট্যাম্পটা মারতে পারি না। কিন্তু সবসময় থাকি।’ তিনি বলছিলেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই এসএফআই করা শুরু। কসবাতেই তাঁর বাড়ি। ওখানেই বিয়ে হয়েছে। ফলত, গলা তুলে তিনিই বলতে পারেন, অন্য কোথাও যাব না, কসবাতেই থাকব। বলছিলেন, ‘আমি কখনো গাড়িতে উঠে প্রচার করিনি। কারণ, সবসময় মনে করি পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার মধ্যে নিবিড় বিষয়টা থাকে। এত বড়ো বিধানসভা কেন্দ্রের পুরোটা যেতে গেলে, আমাকে প্রতিদিন বেরোতেই হত।’ তাই আলাদা করে থিম সং কিংবা সেলেব্রিটি আনতে হয়নি তাঁকে। সিপিএমের মহিলা সমিতির এই নেত্রীর কথায়, ‘এখানকার মানুষ জানেন, আমি পুর প্রতিনিধি থাকার সময় কী কী কাজ করেছি। আমরা আগে ক্যাম্প করে সরকারি ভাতা দিতাম। লোকজন তখন আমাকে এসে কেউ কমলালেবু কেউ আপেল দিয়ে যেতেন। বলতেন, যাঁরা লাইনে দাঁড়াবেন ওঁদের দিয়ে দেবেন। এভাবেই কেটেছে।’
বস্তি থেকে অভিজাত আবাসন, সর্বত্র তিনি গিয়েছেন হেঁটেই। রবিবার পৌঁছে গিয়েছিলেন আরবানাতে। বলছিলেন, ‘ওঁদের সঙ্গে প্রাতর্ভ্রমণ করলাম। কথাবার্তা হল। ওঁরা বললেন, ভোটের পরেও আসবেন কিন্তু।’ তারপর কী হবে? দীপু দাস বলছেন, ‘দেখা যাক। এবার সবটাই মানুষের উপর।’  
   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ