Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নো বায়োমেট্রিক, নো গ্যাস, পুজোয় হেঁশেল সামলানো নিয়ে উদ্বেগ

বায়োমেট্রিক না করলে গ্যাস সিলিন্ডার মিলবে না। এমন হুংকার বহুদিন আগে থেকেই গ্যাস উৎপাদন সংস্থাগুলি দিয়ে আসছে।

নো বায়োমেট্রিক, নো গ্যাস, পুজোয় হেঁশেল সামলানো নিয়ে উদ্বেগ
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বায়োমেট্রিক না করলে গ্যাস সিলিন্ডার মিলবে না। এমন হুংকার বহুদিন আগে থেকেই গ্যাস উৎপাদন সংস্থাগুলি দিয়ে আসছে। এবার উৎসবের মরশুমে তারা এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চাইছে। তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন উপভোক্তারা। তাঁরা বলেন, পরিবারে গ্যাসের সংযোগ একজনের নামে থাকে। কর্মসূত্রে তাঁদের অনেকেই বাইরে থাকেন। তার ফলে তাঁরা বায়োমেট্রিক করাতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা গ্রাম বা শহরে থাকেন। তাঁরাই রান্নাঘরে সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। হঠাৎ করে গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া বন্ধ করে দিলে উৎসবের দিনগুলিতে কীভাবে রান্না হবে? সেই চিন্তায় অনেকেরই ঘুম উবে গিয়েছে। 

Advertisement

শক্তিগড়ের গ্যাস ডিলার রাজীব ভৌমিক বলেন, আমাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বায়োমেট্রিক করছেন। বাড়িতে গিয়ে অনেককে পাওয়া যাচ্ছে না। যাঁদের নামে গ্যাস সংযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকেই বাইরে থাকেন। তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। আরএক ডিলার বলেন, শুধু আমার এজেন্সিতে এখনও প্রায় ১০ হাজার উপভোক্তা বায়োমেট্রিক করেননি। সংস্থার তরফে বারবার বলা হচ্ছে নো বায়োমেট্রিক, নো গ্যাস। সিলিন্ডার না পৌঁছলে পরিবারগুলি বিপাকে পড়ে যাবে। প্রায় এক বছর ধরে বায়োমেট্রিকের কাজ চলছে। এই সময়ের মধ্যে প্রত্যেকের বায়োমেট্রিক করা উচিত ছিল।
উপভোক্তারা বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সব জায়গায় বায়োমেট্রিক করা হচ্ছে না। উৎসবের সময় নো বায়োমেট্রিক, নো গ্যাস সিদ্ধান্ত কার্যকর করা উচিত নয়। অনেকেই বাইরে থাকেন। তাঁরা শুধু বায়োমেট্রিক করার জন্য বাড়ি আসবেন, সেটা হয় না। তাঁদের অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। কেউ আবার অল্প বেতনে কাজ করেন। তাঁদের জন্য আরও সময় দেওয়া উচিত। উপভোক্তা রাজেশ ঘোষ বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যখন যা ইচ্ছে তখন তাই করছে। এর আগে আধার কার্ড তৈরির জন্য টাকা খরচ করে অনেককে কর্মস্থল থেকে আসতে হয়েছিল। রাত জেগে তাঁরা লাইন দিয়েছিলেন। এখন আবার বলা হচ্ছে, বায়োমেট্রিক না করলে গ্যাস সিলিন্ডার মিলবে না। সব কাজ ছেড়ে দিয়ে মানুষ কি এসবই করবে নাকি? আরেক উপভোক্তা সুব্রত দাস বলেন, উৎসবের মরশুম শুরু হয়ে গিয়েছে। যার যেমন আর্থিক অবস্থা হোক না কেন, এই কয়েকটা দিন বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের রান্না হয়। এই সময় সিলিন্ডার না পাওয়া গেলে গৃহিণীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। কালোবাজারি কারবারিরা ফায়দা তুলবে। তাদের কাছে থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হবে। সেটাই হয়তো কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যাস উৎপাদন সংস্থাগুলি চাইছে। উৎসবের মরশুম পেরিয়ে যাওয়ার পর তারা তাদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারত। ডিলারদের দাবি, সিলিন্ডার দেওয়া বন্ধ করতে তাঁরাও চাইছেন না। কিন্তু উপর মহলের চাপে তাঁরা এই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ