নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকেনি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। তাই বৃহস্পতিবার ডোমজুড়ের বেগড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক মহিলা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ যায়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা হয়। তবুও দীর্ঘক্ষণ ধরে বিক্ষোভ চলে। একই কারণে বিক্ষোভ দেখানো হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর এবং জয়নগর-মজিরপুর পুরসভায়।
হাওড়ায় বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গতমাসের প্রথম সপ্তাহেই অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রসহ যাবতীয় নথি অফলাইনে অর্থাৎ পঞ্চায়েত অফিসে জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু বুধবার বহু উপভোক্তা টাকা পাননি। অন্যদিকে, পরে আবেদনপত্র জমা দিয়েও অনেকে এই টাকা পেয়েছেন। এই ঘটনায় পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন মহিলারা। তাঁদের একাংশের দাবি, তৃণমূল-ঘনিষ্ঠদের আবেদন দ্রুত আপলোড করার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে সুরাহা না-হলে পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলানোরও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
বিক্ষোভ চলাকালে পঞ্চায়েত প্রধান অফিসে ছিলেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে ছুটে আসতে হয়। পরে প্রধান দেবাশিস ঘোষ বলেন, ‘পঞ্চায়েতে বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়লেও ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের সংখ্যা অত্যন্ত কম। তাই আপলোডের কাজে দেরি হচ্ছে।’ আবার ব্লক প্রশাসন বলছে, শুধু বেগড়িতে নয়, অধিকাংশ পঞ্চায়েতেই অন্নপূর্ণা যোজনার হাজার হাজার আবেদন অফলাইনে জমা পড়েছে। অধিকাংশ পঞ্চায়েতে মাত্র এক বা দুজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রয়েছেন, যাঁদের নিয়মিত অন্যান্য সরকারি কাজও সামলাতে হয়। এর পাশাপাশি নতুন সফটওয়্যারে আবেদন আপলোডের পদ্ধতি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। তাই একটি ফর্ম আপলোড করতেই প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লাগছে। সীমিত লোকবল ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে আপলোডের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রত্যেক যোগ্য উপভোক্তারই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যায়ক্রমে অর্থ পৌঁছাবে। এদিকে, একই কারণে বারুইপুর ও জয়নগর-মজিলপুর পুরসভায় বিক্ষোভ দেখালেন বঞ্চিত ক্ষুব্ধ মহিলারা। এজন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে সেসব স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টাকা না-পাওয়ায় বারুইপুর পুরসভায় মহিলারা খোঁজ নিতে যান—টাকা ঢুকল না কেন? কিন্তু তার সদুত্তর মেলেনি। তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলারা। বিক্ষোভকারীরা বলেন, পুরসভা শুধুই সার্ভার খারাপের দোহাই দিচ্ছে! ঘটনাস্থলে যান বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম কর এবং অন্য কয়েকজন নেতা। উত্তমবাবুও পুর আধিকারিকের কাছে এই বিলম্বের কারণ জানতে চান। পরে তিনি বলেন, বহু ফর্ম বস্তাবন্দি করে রেখে দেওয়া হয়েছে! সার্ভার খারাপ। কিন্তু কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তার জবাব পুর কর্তৃপক্ষ দেননি। বারুইপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষ বলেন, সার্ভার বন্ধ থাকায় আপলোড করা যায়নি। এজেন্সিকে দেওয়া হয়েছে। সমস্যা মিটে যাবে। জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদার বলেন, ‘চার হাজার ফর্ম জমা পড়েছে। কর্মী কম থাকায় ফর্ম এন্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথা বলে ২৬ জুন সেই ফর্ম এজেন্সিকে দিয়েছি। দশদিনের মধ্যেই সমস্ত ফর্ম এন্ট্রি হয়ে যাবে।’ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে জয়নগর-মজিলপুর পুরসভায় বিক্ষোভ।