Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নকল সোনার কয়েন প্রতারণা চক্রের খোঁজে গিয়ে আক্রান্ত পুলিস, ভাঙচুর

নকল সোনার কয়েন প্রতারণা চক্রের খোঁজে গিয়ে আক্রান্ত পুলিস, ভাঙচুর
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: নকল সোনার কয়েন চক্রের পর্দা ফাঁস করতে গিয়ে আক্রান্ত হল পুলিস। লাভপুর থানা এলাকার হাতিয়া গ্রাম এই নকল সোনার কয়েন চক্রের জন্য কুখ্যাত। সেই গ্রামেই অভিযান চালিয়েছিল পুলিস। এদিন সন্ধে সাতটা নাগাদ পুলিস ওই গ্রামে গেলে দুষ্কৃতীরা পুলিসের উপর চড়াও হয়। পুলিসের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে হাতিয়া গ্রাম। শেষ পর্যন্ত বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়ালের নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী গিয়ে অবস্থা আয়ত্তে আনে। বীরভূম জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ সিং বলেছেন, একজন পুলিসকর্মী জখম হয়েছেন। আমরা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছি। 
Advertisement
বীরভূম জেলায় বহু বছর ধরেই চলছে নকল কয়েনের রমরমা কারবার। স্বর্ণমুদ্রার নামে এইসব নকল কয়েন কিনে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চললেও মূল চাঁইকে জালে পেতে মরিয়া পুলিস। দিন কয়েক আগে শান্তিনিকেতনের ফের নকল সোনার কয়েন উদ্ধারের খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনায় ১৬০টি নকল সোনার কয়েন সহ তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। মূলত, সরল গ্রাম্য ভাষায় দুর্বৃত্তরা প্রথমে শহরের মানুষজনকে লোভ দেখিয়ে বশ করে। এরপর, শান্তিনিকেতন ও তৎসংলগ্ন নির্জন এলাকায় ডেকে এনে মারধর করে টাকা-পয়সা লুট করে। 
বীরভূম জেলায় এই ধরনের প্রতারকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে, লাভপুর থানার হাতিয়া নকল সোনার কয়েন প্রতারক চক্রের মূল ঘাঁটি। এছাড়াও সাঁইথিয়ার কল্যাণপুর, বাতাসপুর, ভ্রমরকোল, আহমদপুর প্রভৃতি জায়গা প্রতারকদের বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফোনকেই হাতিয়ার করে এই দুর্বৃত্তরা—‘বাবু, রাজু মিস্ত্রি বলচি। সেই যে আপনার বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছিলাম।’ এরপরেই শুরু— ‘স্যার, একটা বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে আমার এক আদিবাসী বন্ধু মাটির তলা থেকে বেশ কিছু সোনার মোহর পেয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, তাই ভাবলাম, আপনাকে জানাই। আপনি যদি লেন, সস্তায় দিয়ে দিবো।’ এমন কথা শুনে লোভ সামলাতে পারেন না অনেকেই। সেই লোভই কাল হয়ে দাঁড়ায়।‌ কারণ, এই প্রতারকরা সোনার মোহর সোনার কয়েন বিক্রি করবে বলে প্রথমে একটি আসল সোনার কয়েন দেখিয়ে ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করে। তারপরেই শুরু করে আসল খেলা। ক্রেতাকে চুপিসারে তারা নিজেদের ডেরায় ডেকে নেয়। মূলত আহমদপুর থেকে শান্তিনিকেতনের তালতোড় পর্যন্ত রাস্তা, কোপাই নদী সংলগ্ন গোয়ালপাড়া প্রভৃতি নির্জন জায়গাগুলিকে এই দুর্বৃত্তরা বেছে নেয়। এরপর সোনার পরিবর্তে তামা ও লোহার কয়েন দিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করে। সর্বস্বান্ত হওয়ার পর অধিকাংশ প্রতারিত হওয়া ব্যক্তি লজ্জায় পুলিসকে অভিযোগও জানাতে পারেন না। এমনটাই মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। 
সম্প্রতি, শান্তিনিকেতনে এই ঘটনায় তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে বিপুল নকল সোনার কয়েন উদ্ধার করেছে পুলিস। এছাড়া, গত ১০ দিনে লাভপুরের পুলিস চার কুখ্যাত নকল সোনার কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বিহারের এক ব্যবসায়ীকে ডেকে আড়াই লক্ষ টাকা লুট করে। ওই ব্যবসায়ী ইউপিআই মাধ্যমে বাপ্পা দাস নামের এক প্রতারককে টাকা পাঠিয়েছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তার অ্যাকাউন্টে ১৫-২০ লক্ষ টাকার হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুরো টাকাটাই প্রতারণা করে আদায় করা বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, এই ঘটনার পেছনে লাভপুরে শাসক দলের এক বড় নেতার হাত রয়েছে। যার ইন্ধনে এই দুর্বৃত্তরা দাপিয়ে লুটপাট চালাচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বীরভূম জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ সিং বলেন, নকল সোনার কয়েনের কারবারিদের মূল পান্ডাদের ধরতে এবার বড় অভিযান চালাবে পুলিস। খুব তাড়াতাড়ি এদের গ্রেপ্তার করা হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ