Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নজিরবিহীন! চতুর্থবার জেলা সম্পাদক হলেন নিরঞ্জন সিহি

নজিরবিহীন! চতুর্থবার জেলা সম্পাদক হলেন নিরঞ্জন সিহি
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নজিরবিহীনভাবে টানা চতুর্থবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সিপিএমের সম্পাদক হলেন নিরঞ্জন সিহি। রবিবার পাঁশকুড়ায় তিনদিনের সম্মেলন শেষে ৬০জনের নতুন জেলা কমিটি গঠন করা হয়। জেলা সম্পাদক হন নিরঞ্জনবাবু। দলে কি জেলা সম্পাদক হওয়ার মতো বিকল্প কেউ নেই? টানা চতুর্থবার জেলা সম্পাদক হওয়ার পর দলের ভিতরেই এই প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠছে। অনেক নেতা এই ঘটনায় ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্ট করছেন। তাঁদের নিশানায় রাজ্য নেতৃত্ব।
Advertisement
নিরঞ্জনবাবু অবশ্য বলেন, আমি তিনটি টার্মে জেলা সম্পাদক ছিলাম। আমাদের পার্টির গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত চারটি টার্মে থাকা যায় না। কিন্তু, গঠনতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে, জেলা কমিটির ৭৫ভাগ সমর্থন দিলে চতুর্থবার হওয়া যায়। এজন্য রাজ্য কমিটির অনুমোদন চাই। জেলা কমিটির ১০০ ভাগ সদস্যের সমর্থন পেয়েছি। তাই রাজ্য কমিটি আমাকে পুনরায় জেলা সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০২৬সালে বিধানসভা ভোট রয়েছে। তাই পার্টি নেতৃত্ব আমাকে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১জানুয়ারি পাঁশকুড়ায় সিপিএমের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির ২৫তম সম্মেলন শুরু হয়। তিনদিন ধরে পার্টির সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়। জেলা সম্পাদক নিরঞ্জনবাবু তিনটি টার্ম পূরণ করে ফেলেছেন। তাই এবার তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে অনেক নেতাকর্মী মনে করেছিলেন। তাই তাঁরা দলের নতুন সেনাপতির নাম ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন। বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। একজন লড়াকু নেতার কাঁধে ভর দিয়ে এই জেলায় বিধানসভা ভোটে ঝাঁপানোর আশায় বুক বাঁধছিলেন বহু নেতা-কর্মী। প্রত্যেকের নজর ছিল রবিবার সম্মেলনের শেষ দিনে। কিন্তু, তাঁদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে চতুর্থ বারের জন্য জেলা সম্পাদক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় নিরঞ্জনবাবুকেই। আর তাতেই ঘৃতাহুতি দেওয়ার মতো অবস্থা। 
রাজ্য পার্টির ফেসবুক পেজে নতুন জেলা সম্পাদক হিসেবে নিরঞ্জনবাবুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট হতেই কমেন্ট বক্সে গালিগালাজ আছড়ে পড়ে। পূর্ব মেদিনীপুরের বহু নেতা নিজস্ব ফেসবুক পেজে এই সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতার পাশাপাশি রীতিমতো গালাগালি করেছেন। হলদিয়ার সিপিএমের যুব নেতা সামসুদ্দিন শা-র ফেসবুক পোস্ট, রাজ্য পার্টি চায় পূর্ব মেদিনীপুরে পার্টিটা এনজিও হিসেবে থাকুক। তাই অযোগ্য ব্যক্তিকে  চতুর্থবার দায়িত্ব। পার্টির নন্দীগ্রামের যুব নেতা গৌরাঙ্গবাবুর উপলব্ধি, দেহত্যাগের আগে কখনই পদত্যাগ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, এভাবে পার্টি চলে না। এই জন্য দলটা ক্রমশ শূন্য হয়ে যাচ্ছে। অসুস্থতার জন্য যাঁর চলার শক্তি নেই, তাঁকেই ফের জেলা সম্পাদক করা হল। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ