Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উন্নয়ন, কর্মসংস্থান নিয়ে কথা নেই নীতিনের মুখে, শুধুই বিভাজনের রাজনীতি, সরব তৃণমূল-সিপিএম

সরকার বদলের ডাক দিলেন, অথচ ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের জন্য কী করবেন, তা নিয়ে টুঁ শব্দ করলেন না।

উন্নয়ন, কর্মসংস্থান নিয়ে কথা নেই নীতিনের মুখে, শুধুই বিভাজনের রাজনীতি, সরব তৃণমূল-সিপিএম
  • ৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: সরকার বদলের ডাক দিলেন, অথচ ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের জন্য কী করবেন, তা নিয়ে টুঁ শব্দ করলেন না। এলাম, দেখলাম, নামবদলের হাওয়া তুলে সব ভোট নিয়ে চলে গেলাম? অঙ্কটা কি এতই সহজ? লঝঝড়ে সংগঠন নিয়ে সেই ‘অলীক’ স্বপ্ন বাস্তবের আলো দেখবে না, সেটা কি বুঝে গিয়েছে বিজেপি? তাই কি পরিবর্তন যাত্রার সূচনা অনুষ্ঠানে এসে ইসলামপুরের শ্রীকৃষ্ণপুরের সভায় উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের একটা শব্দও উচ্চারণ না করে কেবল নাম বদলের কথা বলে গেলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন?

Advertisement

এদিন মঞ্চ থেকে নীতিনের মন্তব্য, রাজ্যে বিজেপির সরকার তৈরি হলে ইসলামপুর থাকবে না, হবে ঈশ্বরপুর। ঈশ্বরপুরে পরিবর্তন করার জন্য পরিবর্তন যাত্রায় শঙ্খধ্বনি করুন।
অন্যান্য রাজ্যে বিজেপির নামবদলের রাজনীতি নতুন কিছু নয়। কিন্তু বাংলাতেও সেই ‘নাম’ রাজনীতির আমদানি করতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু এতে কি সাধারণ মানুষের দু’মুঠো বাড়তি অন্নের সংস্থান হবে? মিটবে বাস্তব সমস্যা? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। ইসলামপুরে বেশকিছু হিন্দু সংগঠন আগে থেকেই ইসলামপুরের পরিবর্তে ঈশ্বরপুর ব্যবহার করে। নাম বদল নিয়ে আগে থেকেই তারা ময়দানে নেমে গিয়েছিল। নির্বাচনের আগে সেটাই উস্কে দিতে চাইছে আরেকবার। রাজনৈতিক মহলের একাংশের কথায়, ভোটের লড়াইয়ে এই ধরনের ইস্যু দিয়ে জয় আসে না। এর জন্য বুথস্তর থেকে সংগঠনও জরুরি। সেদিক থেকে রাজ্যে শাসক দলের ধারেকাছে নেই পদ্মপার্টি।
এদিন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। বলেন, ইসলামপুর আসন না  জিতলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠন হবে না। আপনারা ইসলামপুর সিট দেবেন?
নামবদলের ইস্যু উঠতেই এদিন একযোগে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম। তৃণমূল জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, নাম বদলে সাধারণ মানুষের কি উন্নয়ন হবে? বিজেপি উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের কথা বলে না। আমাদের সরকার সাধারণ মানুষের উন্নয়ন নিয়ে সর্বক্ষণ কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রীর জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির সুবিধা পাচ্ছে রাজ্যবাসী। এবার যুবসাথী এবং খেতমজুরদেরও আর্থিক অনুদান দেবে সরকার। আমাদের সরকার পশ্চিমবঙ্গ বদলে বাংলা করার প্রস্তাব নিয়েছিল, কিন্তু তার অনুমোদনই দেয়নি বিজেপির সরকার। তারা শুধুই বিভাজনের রাজনীতি করছে। এখানকার মানুষ কখনই তা মেনে নেবে না।
সিপিএমের জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য বিকাশ দাসের কটাক্ষ, নাম বদলে যদি গ্যাসের দাম তিনশো টাকা হয় এবং সমস্ত বেকার চাকরি পান, তাহলে আপত্তি নেই। এলাহাবাদের নাম প্রয়াগরাজ করেছে বিজেপি, তাতে কি সেখানকার মানুষের দারিদ্র কমেছে? আসলে এসব করে বিভাজন তৈরি করে বিজেপি অশান্তি পাকাতে চাইছে। • নিজস্ব চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ