নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলন রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ কথা বলেও রাজ্যে শিল্পের জন্য জমি যে একটা সমস্যা, তা মেনে নিলেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী। শনিবার বেঙ্গল ক্লাবে বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের পুনরুজ্জীবন বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘এ রাজ্যের উর্বর জমি শিল্পের জন্য দেওয়া নিয়ে একটা সমস্যা হয়। উর্বর জমি থেকে বছরে দু-তিনবার ফসল উৎপাদন হয়।
তাই কৃষক এই জমি দিতে চান না। নর্থ সিতে খনিজ তেল পাওয়ার পরে নেদারল্যান্ডের মতো দেশেও একই সমস্যা হয়েছিল। তবে উন্নয়নের স্বার্থে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হবে। নেদারল্যান্ডস পেরেছে, বাংলাও পারবে।’
উন্নয়নের জন্য শিল্প স্থাপনে জমি দেওয়া যে অনিবার্য, তা মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে কৃষির মাধ্যমে যে আয় করা সম্ভব, শিল্পের মাধ্যমে তার অনেক গুণ বেশি হয়। তাই কৃষি জমিরও কিছু অংশ শিল্পের জন্য বরাদ্দ করতে হবে। নতুন সরকার আসার পরে সাধারণ মানুষের মনে শিল্প নিয়ে মনোভাব বদলেছে। জমি দিতে অনেক কৃষকই এখন ইচ্ছুক। এভাবেই ধীরে ধীরে রাজ্যের শিল্পের ভাবমূর্তি ইতিবাচক হবে।’ পাশাপাশি অশোকবাবু এও মনে করিয়ে দেন, বুনিয়াদি স্তরের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি যে কোনও রাজ্যের উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাই প্রাথমিক স্কুল এবং প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলির উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া সুপারিশ করেন তিনি।
তার ভাষণে তিনি আক্ষেপ জানান, ‘স্বাধীনতার পরবর্তীতে বাংলায় মাথাপিছু আয় কমেই চলেছে। এখন অন্যান্য রাজ্যগুলি তুলনায় যোজন যোজন পিছিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এমনকি পুরো ভারতেও বাংলা অগ্রণী রাজ্য নয়। এর পিছনে একাধিক কারণ থাকলেও, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ভারত দ্রুত উন্নতি করলেও, এখনও চীন এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত হতে গেলে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।’