বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জে ভারত-বাংলাদেশের সীমানাঘেঁষা গ্রাম থেকে ছড়িয়েছে নিপা। আক্রান্ত ২৫ বছরের ওই নার্স পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৫ ও ১৭ ডিসেম্বর ওই গ্রামে যান। সেখানকার মানুষের কাঁচা খেজুরের রস ও গুড় খাওয়ার অভ্যাস আছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানে গিয়েই তরুণী সংক্রামিত হন। এবারের নিপা সংক্রমণ নিয়ে কল্যাণী এইমসের পাঠানো রিপোর্টে এ কথারই উল্লেখ রয়েছে। তরুণ-তরুণীর দেহরসের নমুনা পরীক্ষা করে সেখানকার বিশেষজ্ঞরা ১১ পাতার রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফলখেকো বাদুড়ের (ফ্রুট ইটিং ব্যাট) অন্যতম প্রিয় খাদ্য খেজুরের রস। অনেক ক্ষেত্রে রস খাওয়ার সময় সেখানে বর্জ্য ত্যাগ করে সে। সেই রস থেকে মানবদেহে সংক্রমণ হতে পারে। প্রতিবেশী দেশ সংলগ্ন (ঠিক উলটোদিকে বাংলাদেশের চুয়াডাঙা, একটু দূরে কুষ্ঠিয়া) বিস্তীর্ণ এলাকায় এভাবেই নিপা সংক্রমণ হচ্ছে এক যুগ ধরে। ইনফ্রারেড ক্যামেরায় বাদুড়ের ওই কীর্তিকলাপ ধরা পড়েছে। হু জানিয়েছে, ২০০১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৪৭ জন নিপায় সংক্রামিত হয়েছেন। ফি বছর সংক্রমণ হচ্ছে। মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ। এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সীমান্তবর্তী ওই গ্রামে বাদুড় ধরার জন্য বনদপ্তরকে বলা হতে পারে।
মঙ্গলবার কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধিদল দফায় দফায় বৈঠকে বসে। শহরে এসেছেন এনআইভি পুনের বিজ্ঞানীরা। আজ, বুধবার নিপা ভাইরাস পরীক্ষার পরিকাঠামো থাকা মোবাইল ল্যাবরেটরি (বিএসএল ৩ পর্যায়ের) ভ্যান শহরে আসবে। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে তৈরি হয়েছে নিপা ওয়ার্ড। বারাসতের হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে থাকা ওই তরুণী কোমায় চলে গিয়েছেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক তরুণেরও। পুনেতে পাঠানো তাঁদের নমুনা রিপোর্ট পজিটিভ। দু’জনের সংস্পর্শে আসা শতাধিক মানুষের খোঁজ মিলেছে। আক্রান্ত নার্স কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় যাঁরা সংস্পর্শে ছিলেন, তেমন চারজন নার্স সহ দুই চিকিৎসককে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। যে অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়, তার চালককেও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। নতুন করে কাউকে ভরতি করা হয়নি। নিপার অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডিসিভিরের সংকট দেখা গিয়েছিল। স্বাস্থ্যদপ্তর স্টক জোগাড় করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এমনটাই জানিয়েছেন এক শীর্ষকর্তা।