Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বাবা আমি ভুল করিনি... মেয়েটাকে চিনি না’, ইভটিজিংয়ের ‘ভুয়ো’ অভিযোগ, আত্মঘাতী নবমের ছাত্র

মাস দু’য়েক আগের ঘটনা। দোকান থেকে চিপসের প্যাকেট চুরির মিথ্যা অভিযোগে এক কিশোরকে কানধরে ওঠবোস করানো হয়েছিল। সেই অপমানে আত্মঘাতী হয় কিশোর। সুইসাইড নোটে সে লিখে গিয়েছিল, ‘মা, আমি চুরি করিনি।’

‘বাবা আমি ভুল করিনি... মেয়েটাকে চিনি না’, ইভটিজিংয়ের ‘ভুয়ো’ অভিযোগ, আত্মঘাতী নবমের ছাত্র
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও সংবাদদাতা, কাঁথি: মাস দু’য়েক আগের ঘটনা। দোকান থেকে চিপসের প্যাকেট চুরির মিথ্যা অভিযোগে এক কিশোরকে কানধরে ওঠবোস করানো হয়েছিল। সেই অপমানে আত্মঘাতী হয় কিশোর। সুইসাইড নোটে সে লিখে গিয়েছিল, ‘মা, আমি চুরি করিনি।’ পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার এই মর্মান্তিক ঘটনার খবরে চোখের কোণ ভিজে উঠেছিল অনেকের। ফের সেরকমই এক ঘটনা ঘটল সেই পূর্ব মেদিনীপুরে! কাঁথির পিছাবনীর একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে হেনস্তা ও মারধর করা হয় ওই স্কুলেরই নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে। ওই ছাত্রীর বাবা স্থানীয় একটি বাজারে প্রকাশ্যে তাকে আটকে রেখে মারধর করেন বলে অভিযোগ। ছেলেটির মা-বাবা ছুটে আসেন। লজ্জায় অপমানে মাথা হেঁট হয়ে যায় তাঁদের। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার পর শুক্রবার ভোরে বাড়ির কড়িকাঠ থেকে সেই স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সুইসাইড নোটে স্কুলপড়ুয়া কিশোর লিখেছে, ‘বাবা, আমি কিছু করিনি… মেয়েটিকে আমি চিনিও না।’ পুলিস জানিয়েছে, মৃত কিশোরের বাড়ি পিছাবনীতে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবারও যথারীতি স্কুলে গিয়েছিল ওই পড়ুয়া। ওই দিনই স্কুলের বাইরে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে একদল ছাত্র কটূক্তি করে বলে অভিযোগ। বিকেলে স্কুল ছুটির পর যে যার বাড়ি চলে যায়। সন্ধ্যার দিকে পড়ুয়া বই আনতে এক সহপাঠীর বাড়িতে যায়। সেই সময় ছাত্রীর বাবা তাকে পিছাবনী বাজারে আটকে রাখেন এবং দাবি করেন, সে তার মেয়েকে খারাপ কথা বলেছে। সেখানে পড়ুয়াকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। খবর পেয়ে ছুটে আসেন তার মা-বাবা। তাঁরা ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যান। মা-বাবাকে সে বারবার জানায়, সে কোনও খারাপ কথা বলেনি। একদল ছাত্রের সঙ্গে ছিল সে। সেই ভিড় থেকেই কেউ ওই কাজ করেছিল। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের জেরে রাতে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করেনি সে। তারপরই শুক্রবার ভোরে তার দেহ উদ্ধার হয়। যদিও ছাত্রীর বাবা মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করছেন। 
শনিবার কাঁথি থানার সামনে দাঁড়িয়ে মৃত ছাত্রের বাবা বলেন, ‘ছেলে একটি মেয়েকে কটূক্তি করেছে বলে অভিযোগ করে মেয়েটির বাবা। তারপর লোকজন জড়ো করে ছেলেকে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ছেলেকে নিয়ে আসি। রাতে ছেলে জানায়, ওই ঘটনায় সে যুক্ত ছিল না। অথচ ওই ছাত্রীর বাবা আমার ছেলের উপরই প্রতিশোধ নিলেন। ছেলে এই অপমান সহ্য করতে পারেনি। তাই নিজেকে শেষ করে দিল। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ জানাব।’ কাঁথির মহকুমা পুলিস আধিকারিক দিবাকর দাস বলেন, ‘এখনও লিখিত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ