সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ভোকেশনাল বিভাগের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মেধা তালিকায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে তালডাংরার কার্তিক ওঁরাও নতুনগ্রাম-সারেসকানালি সম্মিলনী আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত ওই বিদ্যালয়ের চার কৃতীই কৃষিবিজ্ঞানের ছাত্র। তাঁদের মধ্যে সায়ন মণ্ডল রাজ্যের মধ্যে প্রথম হয়েছেন। এছাড়াও ওই বিদ্যালয়েরই ছাত্র তুফান লায়েক দ্বিতীয়, অতনু দণ্ডপাট তৃতীয় এবং ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছেন কৃষ্ণেন্দু ঘোষ। একই বিদ্যালয়ে চার ছাত্র মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ায় ভীষণ খুশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শুধু তাই নয়, প্রথম দশের তালিকায় থাকা ১৫ জনের মধ্যে ৯ জনই বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন স্কুলের। তার মধ্যে বিষ্ণুপুরের মুনিনগর রাধাকান্ত বিদ্যাপীঠের ছাত্রী সাথী ধীবর দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। এছাড়াও বাঁকুড়ার মধুবন গোয়েঙ্কা বিদ্যালয়ের ছাত্র রঙ্কিত মালস চতুর্থ এবং একই বিদ্যালয়ের ছাত্র জিৎ শিট সপ্তম হয়েছেন। সিমলাপাল মদনমোহন হাইস্কুলের ছাত্র নীলেশ দে পঞ্চম এবং পুরন্দরপুর হাইস্কুলের ছাত্র রাহুল সিংহ দশম স্থান অর্জন করেছেন।
কার্তিক ওঁরাও নতুনগ্রাম-সারেসকানালি সম্মিলনী আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শান্তি দণ্ডপাঠ বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হলেও আমাদের বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগের পড়ুয়ারা গত কয়েকবছর ধরে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। এবছরও চারজন ছাত্র মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি।
বিষ্ণুপুরের মুনিনগর রাধাকান্ত বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মিত্তন ধক বলেন, গতবছরও আমাদের বিদ্যালয় থেকে ভোকেশনাল বিভাগে একজন ছাত্রী মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছিল। এবছর সাথী ধীবর দ্বিতীয় হয়েছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি।
রাজ্যের মধ্যে প্রথম সায়ন মণ্ডলের বাড়ি তালডাংরায়। তিনি বলেন, কৃষি নিয়ে পড়ার ইচ্ছে আমার প্রথম থেকেই ছিল। তাই মাধ্যমিক পাশ করার পর আমি কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভোকেশনাল বিভাগে ভর্তি হয়েছিলাম। পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। তবে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হব তা ভাবিনি। এরপর কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে বিএসসিতে ভর্তি হব। ভবিষ্যতে কৃষি নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা রয়েছে।
মুনিনগর রাধাকান্ত বিদ্যাপীঠের ছাত্রী মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থানাধিকারী সাথী ধীবরের বাড়ি উলিয়াড়া গ্রামে। তিনি বলেন, আমি কৃষক পরিবারের মেয়ে। ছোটো থেকেই চাষবাসের উপর ঝোঁক রয়েছে। কৃষি বিজ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা। আগামী দিনে কম খরচে কিভাবে উচ্চফলনশীল ফসল উৎপাদন করা যায় সে ব্যাপারে গবেষণা করতে চাই।
চলতি মাসের ১৫ তারিখে ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট কাউন্সিল অফ টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট দপ্তর থেকে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ভোকেশনাল বিভাগের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। মেধাতালিকায় প্রথম দশে মোট ১৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। তার মধ্যে বাঁকুড়া জেলারই বিভিন্ন স্কুলের ন’জন ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। এছাড়াও কলকাতার পশ্চিম পুটিয়ারি সুখরঞ্জন বিদ্যামন্দিরের দুই ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সায়ন্তি সাহা দ্বিতীয় ও রাজু মণ্ডল অষ্টম হয়েছেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের মানিকোর হাইস্কুলের দুই ছাত্রী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রেশমা পারভিন পঞ্চম এবং সামিম আজমিরি ফারহানা নবম হয়েছেন। এছাড়াও পুরুলিয়ার জগোদা সৎসঙ্গ ক্ষিরোদময়ী বিদ্যাপীঠের ছাত্র শ্রীজন মণ্ডল অষ্টম হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের কান্দি রাজ হাইস্কুলের ছাত্র দীপ দাস দশম স্থান অর্জন করেছেন। -নিজস্ব চিত্র