নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নিমতলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির এবার বিশেষ আকর্ষণ মায়ের দ্বৈত রূপ। বহরমপুরের হাতিনগর পঞ্চায়েতের পাশে বিশাল মণ্ডপ তৈরি করছে পুজো উদ্যোক্তারা। এবার ৬০তম বর্ষে তাদের পুজোর থিম আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন। থিমের প্রতিমা রূপ পাচ্ছে টেরাকোটার আদলে। দিনরাত এক করে খাটছেন পাড়ার ছেলেরা।
বুধবার দুপুরে ক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল, টানা রোদে মণ্ডপের কাজ করছেন ক্লাবের সদস্যরা। রাস্তার ধারে পুজো হচ্ছে। পাশেই গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস। প্রতিদিন বহু মানুষ সেখানে ভিড় করে। কোনওভাবে যাতে পুজোর জন্য পথচারীদের কোনও সমস্যা না হয়, সেই দিকে সবসময় খেয়াল রাখেন পুজো কমিটির সদস্যরা। পুজো কমিটির সভাপতি অশোককুমার দেবনাথ ও সম্পাদক নিমাই আচার্য বলেন, এই পুজো আমাদের আবেগ। সবাই নিজেদের সময় বের করে পুজোর আয়োজন করি। পুজোর একমাস আগে থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়। এবারও আমাদের পুজো নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকবে। থিমের মণ্ডপের পাশাপাশি প্রতিমার টেরাকোটার কাজ অবশ্যই দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে।
পুজো পরিকল্পনা ও রূপায়ণে আছেন নন্দদুলাল আচার্য। তিনি বলেন, এবার আমাদের পুজোর বাজেট আট লক্ষ টাকা। ক্লাব সদস্যদের অধিকাংশই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সকলে মিলেই গত ৬০ বছর ধরে এই পুজো করে আসছি। পুজোর এই ক’টা দিন দেবী দুর্গা আমাদের ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠে। পুজোর প্রতিটা দিন পরিবারের সকলে মিলে আমরা এই পুজোয় অংশ নিই।
পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য সুমন দাস বলেন, মা এখানে প্রকৃতিরূপী। প্রকৃতির সমস্ত কিছুর মধ্যে মাকে খুঁজে পাওয়া যাবে। আবার মণ্ডপে মা দেবীরূপে বিরাজ করবেন। এখানে এলেই এই দুইয়ের মেলবন্ধন উপলব্ধি করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।