Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাত নামলে দেদার চুরি, হাওড়ার ইকো পার্ক এখন মদ্যপ ও দুষ্কৃতীর আঁতুরঘর

নাম পরিবর্তনকে ঘিরে যে ইকো পার্ক নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল, সেই হাওড়ার শৈলেন মান্না সরণি সংলগ্ন এইচআইটি ইকো পার্ক এখন দুষ্কৃতীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

রাত নামলে দেদার চুরি, হাওড়ার ইকো পার্ক এখন মদ্যপ ও দুষ্কৃতীর আঁতুরঘর
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নাম পরিবর্তনকে ঘিরে যে ইকো পার্ক নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল, সেই হাওড়ার শৈলেন মান্না সরণি সংলগ্ন এইচআইটি ইকো পার্ক এখন দুষ্কৃতীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শহরের বুকে পরিবেশবান্ধব বিনোদনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গড়ে ওঠা এই পার্ক আজ চুরি, মাদক ও অপরাধ চক্রের আশ্রয়স্থল, এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাত নামলেই পার্কের ভিতরে বসে যায় নেশার আসর। আর সেই সুযোগে দেদার চলছে লোহার গ্রিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি।

Advertisement

ডুমুরজলা স্টেডিয়াম থেকে কিছুটা দূরে, মৎস্য দপ্তরের একটি বিস্তীর্ণ জলাশয়কে কেন্দ্র করে প্রায় সাত বছর আগে গড়ে উঠেছিল এই ইকো পার্ক। ২০২২ সাল নাগাদ হাওড়া পুরসভার উদ্যোগে এখানে বসানো হয় সোলার প্যানেল, তৈরি হয় মর্নিং ওয়াক লেন, শিশুদের খেলার জায়গা, আধুনিক ফাউন্টেন, পিকনিক জোন ও ক্যান্টিন। শহরবাসীর কাছে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে গত বছরের জুলাই মাসে পার্কের দায়িত্ব কেএমডিএ-র হাতে যাওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে অব্যবস্থার অভিযোগ বাড়তে থাকে। সম্প্রতি নাম পরিবর্তনের বিতর্কের আড়ালে পার্ক যে কার্যত নজরদারহীন হয়ে পড়েছে, তা এখন স্পষ্ট। স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কের সীমানা প্রাচীরের পিছনের অংশ বহুদিন আগেই ভেঙে গিয়েছে। সন্ধ্যার পর আলোর অভাবে গোটা পার্ক ঢেকে যায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে। সেই সুযোগে পার্কের দখল নেয় নেশাখোর ও দুষ্কৃতীরা। বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ। পুকুরের ধার ঘেঁষে বসানো লোহার গ্রিলের বড় অংশ উপড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোথাও একটি আলোকবাতি বা সুইচ বক্স অবশিষ্ট নেই। শৌচালয় থেকে উধাও জলের পাইপ ও কল। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে মদের বোতল, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সামগ্রীর অবশেষ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, এই পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার কর্মী আসলে নিধিরাম সর্দার। অভিযোগ, তাঁদের নেই কোনও ইউনিফর্ম, পরিচয়পত্র, এমনকি আত্মরক্ষার জন্য লাঠি বা টর্চলাইট পর্যন্ত নেই। রাতে টহল দিতে গিয়ে কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে কাজ করতে হয় তাঁদের। আগে যে রেজিস্টারে নাম নথিভুক্ত করা হত, তাও এখন নেই। নাম লেখার জন্য ব্যবহার করা হয় একটি মুদিখানার খাতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তাকর্মীর কথায়, ‘সন্ধ্যার পর নিজের নিরাপত্তাই থাকে না, তাও ডিউটি করতে হয়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন খোদ নিরাপত্তা কর্মীরাই। ’ শুধু তাই নয়, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পার্কের ভিতরে দোতলা ভবনে ইদানীং আগ্নেয়াস্ত্রধারী দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বেড়েছে। যদিও হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত চুরির কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ