


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘটনা-১: ফ্ল্যাটে থাকেন এক নাইজেরিয়। অথচ খাতায় কলমে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন অমিত যাদব। তাঁরই আধার কার্ড রয়েছে দালালের কাছে।
ঘটনা-২: ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মধুচক্র চালাত দুই তরুণী। ছেলেদের সঙ্গে যৌনসঙ্গমের ভিডিও তুলে রাখা হতো মোবাইলে। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে চলত ব্ল্যাকমেল। মাস ছ’য়েক আগে বেহালার এক যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার করে টেকনোসিটি থানার পুলিস।
ঘটনা-৩: জি ব্লকের সামনের মাঠে রাত দেড়টা পর্যন্ত চলছে ফুটবল খেলা। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানালে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ১০-১২ জন যুবক। তাঁরা কেউই আবাসনের বাসিন্দা নন বলে দাবি স্থানীয়দের।
এটাই নিউটাউনের সাপুরজির ‘সুখবৃষ্টি’ আবাসন। এক কথায়, দুষ্কর্মের স্বর্গরাজ্য এই আবাসন। রয়েছে বাসিন্দাদের অ্যাসোসিয়েশন। অথচ নজরদারি করার কেউ নেই। বহু ফ্ল্যাটে মালিকের বদলে থাকেন বেনামি ভাড়াটিয়ারা। ২০২১ সালের জুন মাসে পাঞ্জাবের দুই গ্যাংস্টার এনকাউন্টারের ঘটনার পর বেআব্রু হয়েছিল নিউটাউনের এই অভিজাত আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বছর চারেক পর ফের এই আবাসনে বিহারের পাঁচ দুষ্কৃতীর খোঁজ মেলায় প্রমাণিত হল— ‘সুখবৃষ্টি আছে সুখবৃষ্টিতেই’।
এম ব্লকের ৭০ ও ৭৩ নম্বর ফ্ল্যাট দালাল মারফত ভাড়া নিয়েছিল চার দুষ্কৃতী। পঞ্চম ব্যক্তি ‘সুখবৃষ্টি’ আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলেছিল। সে ওই চার দুষ্কৃতীকে নিউটাউনে শেল্টার দিয়েছিল। স্থানীয়দের বক্তব্য, মাস আটেক ধরে তারা সেখানে থাকছিল। তারা আবাসনের কারওর সঙ্গেই কথা বলত না। তবে এটা ঠিক যে, এই আট মাসে তারা কারওর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেনি। মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাট বদলে বদলে থাকত তারা। কখনও ৭০ নম্বরে, কখনও ৭৩ নম্বরে। ৭২ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা বলেন, ‘আমি বোন ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে পাশেই থাকি। কিন্তু, ওরা কোনওদিন আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি। আমরা চিনিও না সেভাবে। এখানে পাশের ফ্ল্যাটে কে কখন থাকে, জানার উপায় নেই। মাঝেমধ্যেই ভাড়াটিয়া বদলে যায়। সবটাই হয় দালাল মারফত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‘জি’ ব্লকের এক বাসিন্দা বলেন, ২০২১ সালের ভয়াবহ ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের চেষ্টা হয়। আবাসিকদের নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন তৈরি হয়। পুলিসের সঙ্গে সেই কমিটির নিয়মিত যোগাযোগের কথা ছিল। ওই বাসিন্দার কথায়, সেসব এখন বিশবাঁও জলে। বাইরে থেকে ছেলে-মেয়েরা ঘণ্টা প্রতি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পার্টি করতে আসে। রাতভর চলে গানবাজনা, হই-হুল্লোড়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অল্পদিনের জন্য অনেকেই এখানে ঘর ভাড়া নেন। তাঁদের পরিচয় আমরা জানি না। দুষ্কর্মের জন্য পুলিসের খাতায় তাঁদের নাম রয়েছে কি না, তা কে যাচাই করবে? প্রবল আতঙ্কে আবাসনের স্থায়ী বাসিন্দারা।